মেসি মাঠে নামা মানেই নতুন কোনো ইতিহাস, নতুন কোনো রেকর্ডের জন্ম। নিজের ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ এবং ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে ২০২৬ আসরেও রেকর্ডের খাতা ওলটপালট করে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি।
মিসরের বিপক্ষে শেষ ১৬-এর রোমাঞ্চকর ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে এমন কিছু কীর্তি গড়েছেন এই রোজারিও ট্রিনিটি, যা ফুটবল ইতিহাসে তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির গড়া এবং ভাঙার মুখে থাকা রেকর্ডগুলোর এক নজরে খতিয়ান:
১. বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি।
চলতি আসরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যান তিনি। এরপর জর্ডান, কেপ ভার্দে এবং মিসরের বিপক্ষে গোল করে নিজের গোলসংখ্যাকে নিয়ে গেছেন ২১-এ! মেসির এই রেকর্ডের পেছনে সবচেয়ে বড় হুমকি মাত্র ২৭ বছর বয়সী কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৯ গোল)। এছাড়া মেসিই বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় যিনি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ৭ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়েছেন।
২. বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ৯টি ম্যাচে গোল করার অবিস্মরণীয় রেকর্ড এখন মেসির দখলে। এর মাধ্যমে তিনি ১৯৫৮ বিশ্বকাপে জাস্ত ফন্টেইন এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে জাইরজিনহোর টানা গোলের অলটাইম রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। ২০২২ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব (অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স) থেকে শুরু করে চলতি ২০২৬ আসরের গ্রুপ পর্ব ও নকআউট পর্বের প্রতিটা ম্যাচেই জালের দেখা পেয়েছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।
৩. বিশ্বকাপের নকআউট বা এলিমিনেশন পর্বের টানা ৬টি ম্যাচে গোল করা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় এখন মেসি। কাতার বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে এই ধারা শুরু হয়ে যা সচল রয়েছে চলতি আসরের শেষ ১৬ পর্যন্ত। এছাড়া ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটের কারণে যুক্ত হওয়া রাউন্ড অব ৩২ (কেপ ভার্দে ম্যাচ) সহ বিশ্বকাপের প্রতিটি ধাপে (গ্রুপ পর্ব, ৩২ দল, ১৬ দল, কোয়ার্টার, সেমি ও ফাইনাল) গোল করা একমাত্র ফুটবলারও তিনি।
৪. মিসরের বিপক্ষে গোল করে চলতি আসরে নিজের ৮ম গোলটি তুলে নেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে কিংবদন্তি গুইলার্মো স্তাবিলের (১৯৩০ বিশ্বকাপ, ৮ গোল) রেকর্ড স্পর্শ করলেন।
৫. অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি জিতেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নিজের করে নেন মেসি। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৭ জয়ের রেকর্ড ভেঙে মেসির নামের পাশে এখন ১৯টি জয় (টাইব্রেকার বাদে নির্ধারিত বা অতিরিক্ত সময়ের জয়)।
৬. আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেই ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড স্পর্শ করেন মেসি। তবে এই রেকর্ডে তার ভাগীদার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১) এবং মেক্সিকোর গুইলার্মো ওচোয়া (৪০)। তারা তিনজনেই ৬টি বিশ্বকাপে স্কোয়াডে ছিলেন।
৭. বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩০টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন মেসির। তিনি জার্মানির লোথার ম্যাথিউসকে (২৫ ম্যাচ) অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছেন। নতুন ফরম্যাটে আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায় বিশ্বমঞ্চে নিজের খেলা ২৫১৯ মিনিটের রেকর্ডকে আরও অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
ভাঙার অপেক্ষায় যে মহাকাব্যিক রেকর্ড
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১০টি অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর রেকর্ডটি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের। মিসরের বিপক্ষে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে দিয়ে গোল করিয়ে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৯-এ নিয়ে গেছেন মেসি। আর মাত্র একটি অ্যাসিস্ট করলেই পেলেকে স্পর্শ এবং দুটি করলে এককভাবে বিশ্বকাপের শীর্ষ অ্যাসিস্টদাতা হবেন তিনি।
মেসি এ পর্যন্ত দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল (২০১৪ ও ২০২২) খেলেছেন। আর্জেন্টিনা যদি এই আসরের ফাইনালে উঠতে পারে, তবে পেলে, কাফু, রোনালদো ও ম্যাথিউসদের টপকে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার একক কীর্তি গড়বেন লিওনেল মেসি।
























