| |
  • প্রচ্ছদ
  • Uncategorized
  • সৌদিতে বাড়ছে প্রাইভেট জেটের চাহিদা, ভাড়াও বেড়েছে ৫০ শতাংশ
  • সৌদিতে বাড়ছে প্রাইভেট জেটের চাহিদা, ভাড়াও বেড়েছে ৫০ শতাংশ

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

    মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক হামলার প্রভাবে সৌদি আরবে হঠাৎ করেই ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বা প্রাইভেট জেটের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বিমান পরিচালনা ব্যয় ও যুদ্ধঝুঁকির বিমা (War Risk Insurance) বেড়ে যাওয়ায় এসব জেটের ভাড়াও ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

    হুতি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন হামলা ও নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে সৌদি আরবের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত বা সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় অনেক ধনী ও প্রবাসী নাগরিক বিকল্প উপায়ে দেশ ছাড়ার পথ খুঁজছেন।

    সংকটময় পরিস্থিতি এড়াতে বিত্তবানরা বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ওপর নির্ভর না করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাইভেট জেট ভাড়া করে নিরাপদ গন্তব্যে পাড়ি জমাচ্ছেন। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে অনেক অপারেটর বা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকলেও সেই তুলনায় পর্যাপ্ত জেট উপলব্ধ না থাকায় ভাড়ার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে রিয়াদের উত্তরের আল-কাসিম বিমানবন্দর থেকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাগামী ১৪ সিটের একটি বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল ৬০০০ জেটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৪,০০০ ইউরো।

    রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ হওয়ার আগে এ ধরনের একটি ফ্লাইটের ভাড়া ছিল প্রায় ৬০,০০০ ইউরো। রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর হুথিদের হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বিমান চলাচল সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়াম জানিয়েছে, হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল এমন ৫,৫০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দরটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ফ্লাইট এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

    সৌদি আরবে জার্মানির লুফথানসা ও ইতালির আইটিএ এয়ারওয়েজের মতো বিমান সংস্থাও তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা সীমিত রেখেছে। রিয়াদ ছাড়তে ইচ্ছুক কিছু যাত্রী শহরটি থেকে প্রায় ২০০ মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত আল-কাসিম বিমানবন্দরে যাচ্ছেন, যেখান থেকে প্রাইভেট ও কিছু বাণিজ্যিক ফ্লাইট পাওয়া যাচ্ছে।

    অন্যদিকে যাদের প্রাইভেট জেট ভাড়া করার সামর্থ্য নেই, তারা বাহরাইন ও কাতারের পথ ধরে নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ইউরোপের ভাড়া ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে প্রাইভেট জেট বুকিং কোম্পানি ‘ইন্টারজেটস’-এর প্রতিষ্ঠাতা চার্লস রবিনসন জানিয়েছেন, সৌদি আরব থেকে ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যের কিছু চার্টার্ড বিমানের ভাড়া ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

    অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী প্রাইভেট জেটের ভাড়া ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ঝুঁকির কারণে অনেক এভিয়েশন অপারেটর সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিষেবা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। এতে উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা কমে গেছে এবং ভাড়াও বেড়ে গেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন ঝুঁকির বীমা বা ওয়ার রিস্ক ইন্স্যুরেন্স-এর খরচও অনেকটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। কিছু বড় প্রাইভেট জেটের জন্য অতিরিক্ত বীমা খরচ ২০ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। আর ছোট বিমানগুলোর ক্ষেত্রে এই অঙ্ক প্রায় ৮ হাজার ডলার বলে জানা গেছে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা

    ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কিছু পশ্চিমা কোম্পানি তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে দুবাই বা নিজ নিজ দেশে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রাইভেট এভিয়েশন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে আঞ্চলিক উত্তেজনার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যেভাবে একযোগে হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়েছিল, বিদেশিদের সৌদি দেশত্যাগের মাত্রা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

    এভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সৌদি আরব থেকে প্রাইভেট বিমানের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে বিমান ভ্রমণের সামগ্রিক চাহিদা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বাণিজ্যিক চলাচলে অনিশ্চয়তা কাট না পর্যন্ত প্রাইভেট সেক্টরের এই আকাশচুম্বী চাহিদা বজায় থাকতে পারে।

    সূত্র: উর্দু পয়েন্ট

    আরও পড়ুন