| |
  • প্রচ্ছদ
  • Uncategorized
  • কারও মোরাল পুলিশিং করার অধিকার নেই
  • মেট্রো রেলে পোশাক বিতর্ক

    কারও মোরাল পুলিশিং করার অধিকার নেই

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন

    মেট্রোরেলে পোশাক নিয়ে হেনস্তার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধ। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। ভাইরাল এ ঘটনার দুদিন পর জাগো নিউজের কাছে নিজের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।

    অ্যাথলেট সাজ্জাদের অভিযোগ, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শরীরচর্চা শেষে মেট্রোরেলে যাতায়াতের সময় তার পরনে ছিল টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট। রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে টিকিট পাঞ্চ করার সময় তার পোশাক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় প্রায় ৪০ মিনিট।

    ঘটনার পর নিজের ফেসবুক আইডিতে ভিডিওসহ একটি পোস্ট করেন স্নিগ্ধ। এতে দেখা যায়, টিকিট পাঞ্চ করার সময় এক পুলিশ সদস্য তাকে থামিয়ে দেন। এরপর তাকে ‘শালীন পোশাকে’ যাতায়াতের কথা বলা হয়।

    এ সময় স্নিগ্ধ প্রশ্ন করেন, ‘কোনটা শালীনতা, কোনটা শালীনতা না, সেটি কোথায় লেখা আছে দেখান আমাকে।’ জবাবে এক পুলিশ সদস্য ভিডিও করতে করতে বলেন, তার পরনের পোশাক ‘শালীনতার পর্যায়ে পড়ে না’।

    এভাবে প্রায় ৪০ মিনিট পরে মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে ট্রেনে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

    এ বিষয়ে কথা হলে জাগো নিউজকে স্নিগ্ধ জানান, কোন নিয়মের কারণে তাকে মেট্রোতে যেতে দেওয়া হবে না- এমন প্রশ্ন করলেও তাকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দেখানো হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট ইনচার্জ ও মেট্রো স্টেশনের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেন স্নিগ্ধ। তার দাবি, তারাও পোশাক নিয়ে একই ধরনের আপত্তি জানান।

    স্নিগ্ধ বলেন, ‘আপনারা যে আমাকে ৪০ মিনিট ধরে হ্যারাস করলেন, এটা আসলে কীসের কারণে করলেন এবং কীভাবে করলেন- এটা জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের কোনো অনুশোচনা ছিল না বা স্যরি বলেনি। সেখানে একটা তাচ্ছিল্যের ভাব ছিল।’

    ‘মোরাল পুলিশিং করার ক্ষমতা কারও নেই’ পোশাকের কারণে তাকে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে ‘মোরাল পুলিশিং’ হিসেবে উল্লেখ করেন স্নিগ্ধ। তিনি বলেন, ‘এই মোরাল পুলিশিং করার ক্ষমতা বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের নেই। পুলিশের তো নাই, নরমাল পাবলিকেরও নাই।’

    তার ভাষায়, ‘আপনার পছন্দ নাই হতে পারে। কিন্তু তাই বলে আপনি কাউকে হ্যারাস করতে পারেন না। এই রাইট আপনার আসলে নাই।’ মেট্রো স্টেশনে পুলিশের দায়িত্ব প্রসঙ্গে স্নিগ্ধ বলেন, ‘মেট্রো স্টেশনে পুলিশের কাজ হচ্ছে নিরাপত্তা রক্ষা করা। সেখানে নিরাপত্তার জায়গায় মোরাল পুলিশিং করার মতো পুলিশের কাজ না।’

    ঘটনার পর মেট্রো স্টেশনে অভিযোগ করেন বলে জানান স্নিগ্ধ। তার দাবি, শুরুতে অভিযোগ নিতে অনীহা দেখানো হয়। পরে অভিযোগ নেওয়া হলেও তাকে অভিযোগের কপি কিংবা ছবি তুলতে দেওয়া হয়নি।

    তার ফোন নম্বরে কল করে বিস্তারিত জানাবে বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য হয়েছে বলেও জানান স্নিগ্ধ। তার মতে, এ ঘটনায় সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।

    তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব বেশি মানসিকভাবে প্রভাবিত হননি বলে জানান। একই সঙ্গে তার আশা, ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা হওয়ায় মানুষ ব্যক্তিগত পছন্দ ও অন্যের জীবনযাপনের প্রতি আরও সহনশীল হবে।

    স্নিগ্ধ বলেন, ‘ভালো-খারাপ দুটিই তো হয়। এই ভাইরাল হওয়ার সূত্রেও যদি মানুষ আসলে বোঝে যে, যে যেভাবে চলতে চাচ্ছে, তাকে তার মতো চলতে দেওয়া উচিত- যতক্ষণ পর্যন্ত সে আপনার ক্ষতি করছে না- তাহলে আমি এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখি।’

    এ ঘটনার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট ও টি-শার্ট পরে মেট্রোরেলে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ‘শর্টস পরেই মেট্রোতে উঠি!’ শিরোনামে ফেসবুকে এ কর্মসূচির ইভেন্ট খুলেছেন শাওন আহমেদ নামে এক ব্যবহারকারী। কর্মসূচির স্থান হিসেবে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন উল্লেখ করা হয়েছে।

    স্নিগ্ধ এটিকে সচেতনতা তৈরির একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে রাস্তায় দৌড়ানোর উপযুক্ত পরিবেশ নেই। ফলে দৌড়বিদদের পার্ক বা নির্দিষ্ট স্থানে যেতে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। সেই সময় দৌড়ানোর পোশাক পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা হলে এ বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।

    স্নিগ্ধ বলেন, ‘আপনি দৌড়াতে যাবেন, আপনি আপনার দৌড়ানোর ড্রেস পরে যাবেন। ঢাকার মতো ক্রাউডেড জায়গায় রাস্তায় দৌড়ানোর মতো পরিবেশ তো নাই। আপনাকে পার্কে গিয়ে দৌড়াতে হবে। বাসা থেকে বের হয়ে সবার বাসার পাশে তো পার্ক নাই। তাহলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে হবে।’

    স্নিগ্ধ জানান, তিনি গত সাত-আট বছর ধরে ম্যারাথন রানিং ও ট্রায়াথলনে অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন ম্যারাথন ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রায় ৪০টির বেশি ইভেন্টে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

    চলতি বছর আয়রনম্যান ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের ৭০.৩ ইভেন্টে কোয়ালিফাই করেন তিনি। সম্প্রতি পাওয়ারম্যান মালয়েশিয়া ক্লাসিক ডিসট্যান্সে নিজের গ্রুপে তৃতীয় হয়েছেন বলেও জানান। পাশাপাশি তিনি মানুষকে রানিং ও ফিটনেস ট্রেনিং দেন।

    নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে স্নিগ্ধ বলেন, ‘যে যার কাজটা প্যাশনেটলি করছে, তাকে সেটা করতে দেওয়া উচিত। সেখানে নিজের পারসপেকটিভ জাহির করা বা জোর করে খাটানোর কোনো মানে আমি দেখি না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সবাই মিলে আসলে একটা সুস্থ পরিবেশ বানানো আমাদের দায়িত্ব। এটা শুধু আমার একার দায়িত্ব না। এটা রাষ্ট্র এবং জনগণ সবার দায়িত্ব।’

    অন্যের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান দেখানো ও ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই অ্যাথলেট ও প্রশিক্ষক।

    আরও পড়ুন