| |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • অনলাইনে গেমিং বন্ধুত্বে শিশুদের শোষণের চিত্র: ইউনিসেফ
  • অনলাইনে গেমিং বন্ধুত্বে শিশুদের শোষণের চিত্র: ইউনিসেফ

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন

    অনলাইন গেমে খেলতে খেলতেই অপরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়। বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন থেকে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ায় ব্যক্তিগত ছবি চাওয়ার পর্যায়ে।

    শেষ পর্যন্ত ছবি দিতে অস্বীকার করায় পরিবারকে সব জানিয়ে দেওয়ার হুমকি-এভাবেই অনলাইন যৌন শোষণের ভয়াবহ ফাঁদে পড়েন পাকিস্তানের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। এএফপির এক প্রতিবেদনে কিশোরীটির নাম জারা শাহ (ছদ্মনাম) উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে বছরে অনলাইনে যৌন শোষণের শিকার হওয়া আনুমানিক ১৫ লাখ শিশুর মধ্যে জারাও একজন। জারা বলেন, ‘আমরা অনলাইন গেম খেলার সময় চ্যাট করা শুরু করি।

    সে বন্ধুর মতো আচরণ করত। পরে সে দেখা করতে চায় এবং আমার কাছে আপত্তিকর ছবি দাবি করে। আমি রাজি না হলে অনলাইনে আমার পরিবারকে খুঁজে বের করে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।’

    ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ভুক্তভোগীদের প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা তাদের পূর্বপরিচিত ছিল।

    প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক ড্যানিয়েল কার্ডেফেল্ট এএফপিকে বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন, অনলাইন গেমিং, উপহার, অর্থ কিংবা ভালোবাসার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে শিশুদের শোষণ শুরু হতে পারে। অপরাধীরা ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জনে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় ব্যয় করতে পারে।

    পাকিস্তানে ভুক্তভোগী শিশুদের ৭১ শতাংশই বিষয়টি কাউকে জানায়নি। জরিপে অংশ নেওয়া কোনো শিশুই পুলিশ, হেল্পলাইন বা সামাজিক কর্মীদের কাছে অভিযোগ করেনি। সামাজিক লজ্জা, কলঙ্ক এবং পরিবার ও সমাজের প্রতিক্রিয়ার ভয়কে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    লাহোরভিত্তিক শিশু অধিকার সংগঠন পাহচানের পরিচালক মেহেক নাঈম জানান, রিপোর্ট করা শোষণের প্রায় ৪৪ শতাংশই পুরোপুরি অনলাইনে ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্ন্যাপচ্যাট ও হোয়াটসঅ্যাপ ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাধ্যম।

    রক্ষণশীল সমাজে অনলাইন যৌন শোষণ ও ব্ল্যাকমেইলের কারণে মেয়েরা আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের চলাফেরা সীমিত করে দেওয়া কিংবা স্কুল ছাড়িয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়।

    জারার ক্ষেত্রেও পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয় তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করে। তিনি বলেন, ‘আমাকে স্কুলে যাওয়া বা ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেওয়া হতে পারত। তাই কথা বলার চেয়ে চুপ থাকাই ভালো মনে হয়েছিল। কিন্তু বিষণ্নতা ও উদ্বেগ প্রতিদিন আমাকে শেষ করে দিচ্ছে। আমি তখন ভয় পেয়েছিলাম, এখনও পাচ্ছি।’

    ইউনিসেফের হিসাবে, পাকিস্তানে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৭৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

    এদিকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানে আইনি কাঠামো থাকলেও এর যথাযথ বাস্তবায়ন নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ডিজিটাল অধিকারকর্মী উসামা খিলজি বলেন, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন হবে। তার মতে, শিশুরা ভিপিএন ব্যবহার করে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে পারে।

    অলাভজনক সংস্থা মুসলিম হ্যান্ডসের মুখপাত্র তাহিরা আফ্রাসিয়াবও প্রযুক্তি-সহায়ক অপরাধ মোকাবিলায় আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

    মানবাধিকার আইনজীবী সালমান আফ্রিদির মতে, গ্রুমিং, প্রলোভন, জবরদস্তি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে শিশুদের যৌন শোষণের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। তিনি এটিকে শোষণের একটি বাণিজ্যিক ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

    জারা ও তার মতো আরও অনেক শিশুর জন্য অনলাইন গেমের মাধ্যমে শুরু হওয়া এমন ঘটনার মানসিক ও সামাজিক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা এখনও কঠিন।

    সূত্র: এএফপি

    আরও পড়ুন