পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তিন বোনের ৩০ দিনের আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককে দ্রুত মুক্তিরও আবেদন জানানো হয়েছে।
সোমবার করা এই আবেদনটি করেছেন আলিমা খানের ছেলে শাহরাইজ খান। লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের জারি করা তিনটি আটকাদেশ বাতিল করে তার মা ও ইমরান খানের অন্য দুই বোনকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর লাহোরের ডেপুটি কমিশনার জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের ৩ নম্বর ধারায় আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের আটকাদেশ জারি করেন। আলিমাকে এর আগেই আটক করা হয়েছিল। পরে সোমবার উজমা ও নরিনকেও আটক করা হয়।
আবেদনে শাহরাইজ খান দাবি করেন, আলিমা খানকে ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় তার গাড়িচালক মুহাম্মদ আমিরসহ আটক করা হয়। ওই সময় সেখানে জনশৃঙ্খলা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে-এমন কোনো জনসমাবেশ বা পরিস্থিতি ছিল না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদন অনুযায়ী, আলিমা খান ও তার গাড়িচালককে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়েছে। আলিমাকে একজন শান্তিপ্রিয় ও আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে শাহরাইজ দাবি করেছেন, জননিরাপত্তা, জনস্বার্থ বা জনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর কোনো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন না।
আটকাদেশের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তার দাবি, আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকের বিরুদ্ধে জারি করা সরকারি নথিতে পর্যাপ্ত ও নির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া রাজনৈতিক বিরোধীদের চাপ এবং পুলিশের মৌখিক পরামর্শের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন আটকাদেশ জারি করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের আটকাদেশে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে উজমা ও নরিনের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৯ মে-র বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে সংশ্লিষ্টতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসমাবেশের মাধ্যমে কর্মীদের সংগঠিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব কর্মকাণ্ড জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে বলে প্রশাসনের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের আটকের ঘটনায় তার ছেলে কাসিম খানও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তার খালা উজমা ও নরিন এবং চাচাতো ভাই শেরশাহ ও শাহরাইজকে তাদের বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কেন তাদের আটক করা হয়েছে এবং কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পরে কাসিম জানান, শাহরাইজের সন্তানরা নিরাপদে আছে; তবে আরও দুই স্বজন আজিম ও সাকিনাহকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
পিটিআইও ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের আটকের প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটির নেতারা ঘটনাগুলোকে অবৈধ ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ইমরান খানের তিন বোনের আটকাদেশের বৈধতা নিয়ে করা আবেদনটি এখন লাহোর হাইকোর্টে বিচারাধীন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পিটিআইয়ের নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে এই আইনি লড়াই নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, এএনআই ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

























