রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে উত্তোলন করা বিপুল অঙ্কের অর্থের যথাযথ হিসাব বা ভাউচার জমা দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাকসু প্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির বিপরীতে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা (প্রায় দেড় কোটি টাকা) উত্তোলন করলেও তার একটি বড় অংশের কোনো বিল-ভাউচার জমা দিতে পারেননি।
কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের সূত্র ও নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তোলনকৃত ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকার মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকার কোনো বিল-ভাউচার এখনো জমা দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ উত্তোলন করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা তুললেও ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা খরচের ভাউচার জমা দেননি।
একইভাবে রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে মাত্র ৯৯ হাজার টাকার হিসাব দেখিয়েছেন; বাকি ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভাউচার এখনো জমা পড়েনি। এছাড়া এজিএস, ক্রীড়া সম্পাদকসহ আরও কয়েকজন সম্পাদকের নামে নেওয়া বরাদ্দের বিপরীতেও ভাউচার অসমন্বিত রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, ভ্যাটের নিয়ম ও সমন্বয়গত জটিলতার পাশাপাশি সম্মিলিত বাজেট জমা না হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে ভিপি জাহিদ বলেন, “কার্যক্রমের হিসাব এখনো চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়নি।
অডিটের আগেই নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত বিল-ভাউচার জমা দিয়ে হিসাব সমন্বয় করা হবে।” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কোষাধ্যক্ষ কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের খরচের হিসাব সমন্বয় না করে পরবর্তী অর্থ উত্তোলনের নিয়ম নেই।
দ্রুতই এসব অসমন্বিত অর্থের ভাউচার জমা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


























