জার্মানিতে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুকে কেন্দ্র করে দেশটিতে লক্ষাধিক নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সমাগম ঘটে। তবে এই আবাসন সংকটকে কাজে লাগিয়ে মেতে উঠেছে একশ্রেণীর সুযোগসন্ধানী ও প্রতারক চক্র। তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে বিপাকে পড়ছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নতুন আসা শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ভুয়া বাসার বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রতারণার নানান চিত্র।
ফেসবুকে আকর্ষণীয় স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা কম ভাড়ার রুমের ছবি দেখিয়ে সাজানো ভুয়া চুক্তিপত্র পাঠানো হয়। চুক্তি নিশ্চিত করার নাম করে বাংলাদেশ থেকেই অগ্রিম ভাড়া বা ডিপোজিট বাবদ ৬০০ থেকে ১২০০ ইউরো (প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) পর্যন্ত দাবি করা হয়।
দেশে টাকা পাঠানোর পর জার্মানিতে পৌঁছামাত্রই প্রতারকদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং ফেসবুক আইডি ও বিজ্ঞাপনের লিংক ডিলিট করে দেওয়া হয়। প্রদত্ত ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায় হয় সেটি কোনো বাণিজ্যিক ভবন, না হয় সেখানে আগে থেকেই অন্য কেউ বাস করছেন।
ঢাকা থেকে বার্লিনে মাস্টার্স পড়তে আসা জামিলুর রহমান জানান, নতুন শহরে দ্রুত বাসা নিশ্চিত করার তাড়াহুড়োয় তিনি বাংলাদেশ থেকে অগ্রিম ১২০০ ইউরো পাঠান। কিন্তু বার্লিনে নেমে নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারেন তা ভুয়া। প্রায় একই ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন কটবুসে পড়তে যাওয়া শারমিন আক্তার এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান।
জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রবাসী বাঙালি সংগঠনের প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন:
জার্মানি পৌঁছানোর আগে বা সরাসরি পরিচিত কেউ না দেখে অনলাইনে অপরিচিত কাউকে টাকা পাঠানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। প্রতারক চক্র অনেক সময় অন্য দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অগ্রিম অর্থ পাঠাতে বলে। এ জাতীয় অফার দেখলে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কোনো লেনদেন করা উচিত নয়।
আবাসন সমস্যায় পড়লে সরাসরি নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ (International Office) বা পরিচিতদের সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।


























