| |
  • প্রচ্ছদ
  • Uncategorized
  • হুথিদের ঠেকাতে মিত্রদের সহায়তা চেয়েছে সৌদি
  • হুথিদের ঠেকাতে মিত্রদের সহায়তা চেয়েছে সৌদি

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন

    ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার মজুত কমে এসেছে সৌদি আরবের। এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

    আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরব ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিশরের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে। হুথি ও ইরান-সমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে এ সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

    পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন তারা। কারণ, গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানানোর অনুমতি নেই। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বুধবার সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিরা ড্রোন দিয়ে ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম শহর মক্কায় হামলার চেষ্টা করেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী ওই ড্রোনটি ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    ইয়েমেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে মক্কা। সৌদি আরবের ভাষায়, শহরটি তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। ঘটনার পর আঞ্চলিক পর্যায়ে নিন্দা জানানো হলেও সৌদি আরবের পক্ষে সরাসরি সামরিক সহায়তার কোনো ঘোষণা আসেনি।

    সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্রও বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতির মুখে রয়েছে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তার দাবি, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুতই কমে গেছে।

    ফলে সৌদি আরবকে একই সঙ্গে সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও তেল অবকাঠামো রক্ষার চাপ সামলাতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিকে সৌদি আরবের জন্য ‘খুব কঠিন’ বলে বর্ণনা করেছেন এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা।

    হুথিদের হামলার পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল সরবরাহব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়েছে। ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলার পর সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।

    এদিকে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামো ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

    এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। নিউ আমেরিকার গবেষক অ্যাডাম ব্যারনের মতে, বিষয়টি শুধু হুথি ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে হবে না। আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করাও এর সঙ্গে জড়িত।

    এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মিত্রদের নিয়ে যৌথ প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে আপাতত কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ইয়েমেনে উত্তেজনা কমাতে ওমান এবং মিশরও উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

    গত সপ্তাহের শেষ দিকে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও হুথি প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি। তবে বৈঠকের বিস্তারিত জানা যায়নি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস মঙ্গলবার সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কথা নিশ্চিত করেছেন।

    তবে সৌদি আরব সামরিক সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি। যুক্তরাজ্যের সেনারা সৌদি আরবে অবস্থান করছে কি না, এ প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। এদিকে ইউরোপেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতির কথা এর আগে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষে সৌদি আরবকে কতটা সহায়তা দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা সৌদি আরব, ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিরও প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরব তাদের কাছে সামরিক সহায়তা চায়নি।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ অবশ্য মক্কায় হামলার চেষ্টার অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের পাশে থাকার কথা বলেছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

    তুরস্ক বর্তমানে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে আলোচনা করছে বলে এক তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে এবং দেশটিকে অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। তবে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহের অভাবই দেখা যাচ্ছে।

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার বলেন, ওয়াশিংটন সৌদি আরবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং হুথিদের সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা করেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সৌদি বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

    তবে সৌদি আরবের হয়ে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে—এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। গত বুধবার হুথিরা দাবি করেছে, ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশের আকাশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তারা। তবে ঘটনাটি কখন ঘটেছে, তা জানানো হয়নি।

    হুথিদের গণমাধ্যম চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সৌদি পতাকা আঁকা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ বলে দাবি করা বস্তু সরাতে দেখা গেছে যোদ্ধাদের। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস স্বাধীনভাবে ওই দাবি যাচাই করতে পারেনি। সৌদি সরকার বা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সূত্র: এপি

    আরও পড়ুন