আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের কাছে মোট ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা দেনা রয়েছে। এ অবস্থায় নিজেকে আদালতের মাধ্যমে দেউলিয়া ঘোষণা করলেন অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করে রায় দেন। মামলায় ২৬৭ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল।
তাদের মধ্যে ৭২ জনের পক্ষে আইনজীবী মো. রুহুল আমিন বলেন, ওসমান গনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঋণ ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জন্য অর্থ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় তিনি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার আবেদন করেন।
রায়ের বিষয়ে আইনজীবী রুহুল আমিন বলেন, এই রায়ের ফলে বিবাদীরা মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাছাড়া এ ধরনের রায় হলে ভবিষ্যতে অনেক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার সুযোগ নিতে পারেন, যা সমাজে নেতিবাচক নজির তৈরি করবে।
আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ওসমান গনি বাদী হয়ে দেউলিয়া বিষয়ক আইনের ১০ ধারায় মামলাটি করেন। মামলায় ২৬৭ জনকে বিবাদী করা হয়।
মামলার আরজিতে ওসমান গনি উল্লেখ করেন, আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির জন্য পাওনাদারদের সঙ্গে সমঝোতা বা অন্য কোনো সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজে না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছেন।
আরজিতে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে ওসমান গনি তার মালিকানাধীন তিনটি অটোমেটিক রাইস মিল স্থাপন ও পরিচালনা করেন। ব্যবসা শুরুর পর নিয়মিত ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য অর্থ পরিশোধ করতেন। তবে পরবর্তী সময়ে একই এলাকায় আরও একাধিক অটোমেটিক রাইস মিল গড়ে ওঠে। এতে শিল্পটি ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
চাল উৎপাদনের সার্বিক ব্যয় চালের বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় চালকল মালিকেরা বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আরজিতে উল্লেখ করেন ওসমান গনি।

























