জাতীয় জীবনের সংকটে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বারবার এক আস্থার প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই দলটি দেখিয়েছে কীভাবে একটি জাতিকে নৈরাজ্য ও দিশেহারা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে প্রগতির পথে ধাবিত করতে হয়।
সত্তরের দশকের শেষভাগে এক চরম রাজনৈতিক শূন্যতা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছিলেন। সেই থেকে শুরু করে আজ অবধি দেশের যেকোনো সংকটকালে জিয়াউর রহমানের দর্শনে বিশ্বাসী দলটি নিজেদের দূরদর্শী নেতৃত্বের সাক্ষর রেখে চলেছে।

বিএনপির ইতিহাস মূলত একদলীয় শাসন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের ইতিহাস।
নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার অকুতোভয় নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর আপসহীন ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আপামর মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং দেশের মূলধারার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারে বিএনপির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তৃণমূল পর্যায়ে উন্মুক্ত অর্থনীতি, পোশাক শিল্পের প্রসার, কৃষি বিপ্লব এবং প্রবাসী আয়ের দুয়ার উন্মোচনের মধ্য দিয়েই তৎকালীন সময়ের দুঃসময় কাটিয়ে বাংলাদেশ এক উদীয়মান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল।
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে, যেখানে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অর্থনীতি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, সেখানেও বিএনপি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
হাজারো নির্যাতন, হামলা ও মামলার মুখেও জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার নীতি-আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে দলটি দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাজপথে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তারেক রহমানের নতুন দিনের চিন্তাভাবনা এবং সংস্কারমুখী দৃষ্টিভঙ্গি দেশের যুবসমাজ ও সর্বস্তরের মানুষকে পুনরায় আশার আলো দেখাচ্ছে।
কোনো জাতির পথচলা সবসময় মসৃণ হয় না; ঘনিয়ে আসে রাজনৈতিক ও সামাজিক দুর্যোগ। সেই দুর্যোগের মেঘ কাটানো এবং জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখানোর জন্য প্রয়োজন হয় এক বিশ্বস্ত রাজনৈতিক শক্তির।
বিএনপি প্রতিটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে প্রমাণ করেছে—তারা কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগী নয়, বরং প্রতিটি জাতীয় সংকট ও দুঃসময়ে দেশের কাণ্ডারি হতে প্রস্তুত এক বিশ্বস্ত জাতীয় শক্তি।

লেখকঃ মোঃ শরীফুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক, এশিয়ান দর্পণ।





























