| |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রাখছে কাতার
  • হরমুজ প্রণালীতে সংকট

    নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রাখছে কাতার

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি অব্যাহত থাকায় ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি ক্রেতার কাছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্থগিত রাখছে কাতার এনার্জি। কিছু কার্গোর ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও এ পরিস্থিতির প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের কয়েকটি কার্গো বাতিলের সময়সীমা অক্টোবর পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইউরোপের কয়েকজন ক্রেতার সরবরাহও আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

    ‘ফোর্স মেজর’ বলতে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ দিতে না পারলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ব্যবস্থাকে বোঝায়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এলএনজি সরবরাহকারী কাতার।

    পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কাতার এনার্জি থেকে প্রায় ৪০ কার্গো এলএনজি পাওয়ার কথা ছিল। তবে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে এর প্রায় অর্ধেক কার্গো পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দোহা নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। তবে এ বিষয়ে কাতার এনার্জির কাছ থেকে এখনো নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা।

    ফোর্স মেজরের মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে কাতার এনার্জি পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে কি না জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখনো এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে অন্যান্য ফোর্স মেজরের বিষয়টি আমরা শুনেছি।’

    এদিকে পাকিস্তানের কয়েকটি এলএনজি কার্গো বাতিলের পরিস্থিতি অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলে দেশটির ক্রেতাদের জানিয়েছে কাতার এনার্জি। ইউরোপের আরও কয়েকজন ক্রেতাও একই ধরনের নোটিশ পেতে শুরু করেছেন।

    কাতার এনার্জির সরবরাহে বিঘ্নের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতারা বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয়। তবে এ পদ্ধতিতে আনার কথা থাকা কয়েকটি কার্গো নির্ধারিত সময়ে না আসায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানা ও আবাসিক খাতেও।

    দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় স্পট মার্কেট থেকে কেনাকাটা বাড়িয়েছে পেট্রোবাংলা। সম্প্রতি সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি কার্গো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর একটির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ৬২৫ ডলার এবং অন্যটির ২৪ দশমিক ২৫ ডলার। যুদ্ধের আগে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজির দাম সাধারণত ১০ থেকে ১২ ডলারের মধ্যে ছিল।

    এলএনজি সরবরাহে প্রতিযোগিতা বাড়ানো ও বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে সরবরাহকারীর তালিকা সম্প্রসারণের উদ্যোগও নিয়েছে পেট্রোবাংলা। নতুন প্রতিষ্ঠানকে স্পট মার্কেটে এলএনজি সরবরাহকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে প্রাক্‌যোগ্যতা প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।

    হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের পর গত ২ মার্চ কাতার এনার্জি এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করে। দুই দিন পর, ৪ মার্চ, সরবরাহে ফোর্স মেজর ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

    জ্বালানি বাজারের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে দেশটি রপ্তানি করেছিল ৫০৯টি কার্গো। রপ্তানি কমে যাওয়ায় গ্যাস বিক্রি থেকে কাতারের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে বলে রয়টার্সের হিসাবে উঠে এসেছে।

    কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দেশটির জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলিয়ে পাকিস্তানের এলএনজি আমদানির ৯৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ এবং ভারতের ৫৩ শতাংশ সরবরাহ করে। এসব দেশে এলএনজির বড় অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত হয়।

    সরবরাহ সংকটের মধ্যে ভারত শিল্প খাতে এলএনজি সরবরাহ সীমিত করেছে, বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে কেনাকাটা বাড়িয়েছে এবং পাকিস্তান জরুরি গ্যাস ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নিয়েছে।

    আরও পড়ুন