ইসরায়েলের অব্যাহত আক্রমণ ও গাজা যুদ্ধের কারণে টানা তিন বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতেই মাঠে গড়াচ্ছে ফিলিস্তিনের ঘরোয়া ফুটবল। গত সোমবার ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাধুলা পুনরায় শুরুর কথা নিশ্চিত করেছে।
যুদ্ধে প্রাণ হারানো ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ফুটবলারের স্মরণে এই প্রথম টুর্নামেন্টটির নামকরণ করা হয়েছে ‘কাপ অব আ থাউজেন্ড মার্টিয়ার্স’ (এক হাজার শহীদের কাপ)। রামাল্লায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাতটির সভাপতি জিবরিল রাজুব ঘোষণা দেন, ‘আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা আমাদের ক্রীড়া কার্যক্রম ও চ্যাাম্পিয়নশিপ পুনরায় চালু করতে যাচ্ছি।
এই টুর্নামেন্টে মোট ২২৬টি ক্লাব অংশ নেবে। এর মধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজা উপত্যকার ৪৪টি এবং লেবাননে অবস্থিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের ৩৬টি ক্লাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনটি উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে একসঙ্গে টুর্নামেন্টের পর্দা উঠবে। ফয়সাল আল-হুসাইনি স্টেডিয়ামে জাবাল আল-মুকাবের মুখোমুখি হবে ট্রাইব অব খলিল।
গাজা অঞ্চলে শাবাব রাফাহ লড়বে খাদামাত রাফাহর বিপক্ষে, আর লেবাননের আইন আল-হিলওয়ে ক্যাম্পে আল-আনসার মুখোমুখি হবে আল-নাহদার।
১৯৬০-এর দশকের আন্তর্জাতিক সীমানা চুক্তিকে অমান্য করে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করায় দশকের পর দশক ধরে এই অঞ্চলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। গত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন তীব্র আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। এই সময় বাড়িঘর ও হাসপাতালের পাশাপাশি অসংখ্য ফুটবল মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যার ফলে দীর্ঘদিনের জন্য সব ধরণের খেলাধুলা স্থগিত করতে বাধ্য হয় পিএফএ।
ভয়াবহ বাস্তবতার উল্লেখ করে পিএফএ সভাপতি রাজুব বলেন, ‘এত রক্তক্ষয় সত্ত্বেও আমরা আমাদের জাতীয় চেতনা হারাইনি। খেলাধুলা যে আশা ও বেঁচে থাকার প্রতীক, সেই বিশ্বাস আজও আমাদের মনে অটুট রয়েছে।’
পিএফএ বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিফাসহ বিশ্বের অন্যান্য ফুটবল ফেডারেশনগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে, যাতে ফুটবলাররা মর্যাদার সঙ্গে খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থা ফিফাকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে সবার জন্য সমানভাবে নিজস্ব আইন প্রয়োগ করার সাহস ফিফার আছে কি না। বেশ কয়েক বছর ধরেই পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিভিত্তিক ক্লাবগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ফিফায় ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিতের দাবি জানিয়ে আসছে পিএফএ।
ফিলিস্তিনি ফুটবলের এই নতুন যাত্রায় জাতীয় দলও প্রস্তুত হচ্ছে। আগামী জানুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবে সেপ্টেম্বরে চীনের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ফিলিস্তিন। পাশাপাশি জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী এশিয়ান গেমসে ফিলিস্তিনের ১০৮ সদস্যের একটি দল অংশ নেবে, যার মধ্যে ১৯টি ইভেন্টে ৬৭ জন পুরুষ ও নারী অ্যাথলেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
























