বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা ভেঙে এ বছর পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৫.৪৯ শতাংশে।
শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাসের হারের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে একযোগে দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। মোট পাসের হার: ৫৫.৪৯%।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তি: বিগত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বিভাগভিত্তিক ফল: সাধারণ ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তরপত্রের কঠোর মূল্যায়নের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, ফলাফলে এমন পতনের পেছনে কয়েকটি মূল কারণ কাজ করেছে:
১. মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন: উত্তরপত্র মূল্যায়নে নতুন নির্দেশিকা অনুসরণ এবং খাতা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ।
২. ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা: অন্যান্য বোর্ডের মতো মাদরাসা বোর্ডেও গণিত, ইংরেজি ও মূল আরবি বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ফল অপেক্ষাকৃত খারাপ হওয়া।
৩. নিয়মিত উপস্থিতির অভাব: মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মাদরাসায় গুণগত পাঠদান এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কম থাকা।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ফলাফলের এই নিম্নগতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। যেসকল মাদরাসায় পাসের হার অস্বাভাবিক কম বা শূন্য, সেগুলোকে চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরবর্তী বছরের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।























