ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগেই যেন উৎসবে ফেটে পড়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর। প্রিয় তারকা লিওনেল মেসির পায়ে শেষ মুহূর্তে দ্বিতীয় গোল আসতেই নীল-সাদা সমর্থকদের উল্লাসে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।
সোমবার (২২ জুন) বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে রাত থেকেই টিএসসিতে জড়ো হতে থাকেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। বড় পর্দার সামনে জায়গা নিতে অনেকেই খেলা শুরুর ঘণ্টাখানেক আগেই চলে আসেন।
কারও গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, কারও হাতে বিশাল পতাকা, আবার কেউ মুখে এঁকে নিয়েছেন প্রিয় দলের রং। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দলের প্রথম গোলটি হলে টিএসসিতে শুরু হয় উল্লাস। সমর্থকদের চিৎকার, বাঁশি আর ঢাকের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো চত্বর।
তবে ম্যাচের শেষ ভাগ পর্যন্ত দ্বিতীয় গোলের অপেক্ষায় ছিলেন সমর্থকেরা। অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ালেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান লিওনেল মেসি। তার পা থেকে আসা গোলেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
গোল হতেই টিএসসিতে শুরু হয় আনন্দের বিস্ফোরণ। অনেককে লাফিয়ে উঠে একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। কেউ মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্ত ধারণ করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছেন উল্লাসের দৃশ্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আর্জেন্টিনা সমর্থক মেহেদী হাসান বলেন, “মেসির গোলের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। শেষ মুহূর্তে তিনি আবারও দেখিয়ে দিলেন কেন তিনি সবার সেরা। গোল হতেই মনে হয়েছে বিশ্বকাপ জিতে গেছি।”
টিএসসিতে খেলা দেখতে আসা আরেক সমর্থক নুসরাত জাহান বলেন, “প্রথম গোলের পর থেকেই মনে হচ্ছিল শেষ মুহুর্তে মেসির একটা গোল দরকার। শেষদিকে সেই গোল পেয়ে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।”
খেলা দেখতে আসা কয়েকজন ব্রাজিল সমর্থকও ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। যদিও খুনসুটি ছিল, তবে ফুটবলের উৎসবই ছিল সবার মূল আকর্ষণ। টিএসসির এক পাশে পরিবার নিয়ে খেলা দেখতে আসা ব্যাংকার সাইদুল ইসলাম বলেন, “ছেলেকে নিয়ে এসেছি ফুটবলের এই আবহ দেখানোর জন্য। খেলার চেয়ে মানুষের আবেগ দেখেই ও বেশি মুগ্ধ হয়েছি।”
ম্যাচ শেষে টিএসসি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিজয় মিছিল করতে দেখা যায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের। অনেকেই মোটরসাইকেল বহরে অংশ নেন, কেউ জাতীয় ও আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে স্লোগান দেন।
শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয়। আর সেই জয়ের আনন্দে রাতভর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, যেখানে ফুটবলপ্রেমীদের কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হয়েছে একটাই নাম মেসি, মেসি, মেসি।
























