ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় তেহরান এখন ‘সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছে।
দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাও কার্যত থমকে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর যে সংঘাত শুরু হয়, সর্বশেষ পরিস্থিতিতে তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ১৪ ডলারে উঠেছে। সোমবার ব্রেন্টের দাম ৩০ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪২ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ০৪ ডলারে উঠেছে। দিনের শুরুতে দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ৮৫ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, সপ্তাহের শুরুতেই তেলের দাম বেড়েছে, কারণ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার মতো কোনো সমঝোতা এখনো দৃশ্যমান নয়। ওই নৌপথে জাহাজ চলাচলও খুবই সীমিত।
সূত্র: রয়টার্স
























