| |
  • প্রচ্ছদ
  • মুক্তমত
  • শিশু ধর্ষণের জন্য আলাদা শাস্তির বিধান করুন
  • শিশু ধর্ষণের জন্য আলাদা শাস্তির বিধান করুন

    Icon
    শারমীন রিনভী
    প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন

    শিশু ধর্ষণের জন্য আলাদা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করুন, প্লিজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রী, শুধু ফাঁসি বা প্রচলিত শাস্তি নয়; প্রয়োগ করতে হবে এমন শাস্তি, যা দেখে মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করে।

    আপনি রামিসার বাসায় গিয়ে বাবা মায়ের কষ্ট ভাগ নিয়েছেন এজন্য ধন্যবাদ আপনাকে। দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি ভালো লেগেছে। তবে এই আশ্বাস যেন বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় না পড়ে সেদিকে প্লিজ নজর রাখুন। জানি আপনি পুরো দেশের কাজে ব্যস্ত থাকবেন। কিন্তু শিশু ধর্ষণের শাস্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করে আপনি ইতিহাস হোন – এ প্রত্যাশা করছি। ‘The Disappearance of Willie Bingham’ শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণকারীদের নিয়ে শর্ট ফিল্মটা এইমাত্র আবারও দেখলাম।

    আপনারা যারা দেখেননি তাদের জন্য গল্পটা বলছি। উইলি বিংহাম, একটি বাচ্চা মেয়েকে ধর্ষণ ও খুন করে। কিন্তু আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় না কারণ ঐ দেশ থেকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিয়ে সে নির্বিকার। তার মধ্যে কোন অনুশোচনাও ছিল না। বরং সে ঠিক কাজ করেছে এমন অঙ্গভঙ্গি করে। আদালত এবং সরকার চাইছিল না এমন অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি না দিয়ে শুধু জেলে রেখে দিতে।

    তখন সেদেশ আইনে নতুন এক শাস্তি নির্ধারণ করে। নতুন আইন অনুযায়ী, উইলিকে শাস্তি দেয়— এক এক করে তার অঙ্গ কেটে ফেলবে, অপারেশন থিয়েটারে সার্জারির মাধ্যমে। শাস্তি বাস্তবায়নের সময় ভিকটিম পরিবার কাচের জানালা দিয়ে অপারেশন দেখতে পারবে এবং তাদের সম্মতিতে ঠিক করা হয় অপরাধীর শরীরের ঠিক কোন অংশটি কখন কেটে ফেলা হবে! মেয়েটির পরিবার এই শাস্তিতে রাজি হয়।

    জর্জ মরটন নামের এক অ্যাটর্নি, উইলিকে তার বিরুদ্ধে রায় শোনান। শাস্তি শুনে উইলি চিৎকার করে বলতে থাকে —তাকে যেন একবারে মেরে ফেলা হয়, বিষ দেওয়া হয় বা ফাঁসি দেওয়া হয়। কিন্তু তার মৃত্যুর আবেদন সরাসরি খারিজ হয়ে যায়।

    এরপর শুরু হয় প্রথম অস্ত্রোপচার। অবশ করার পর কেটে বাদ দেওয়া হলো তার বাম হাত। অপারেশনটি গ্লাসের অপর পাশ থেকে দেখে ‘ প্রসিড ‘ বলে সম্মতি দেয় ধর্ষিত ও মৃত বাচ্চাটির পুরো পরিবার।

    পঙ্গু শরীর নিয়ে উইলিকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন অবাধ্য ও বখাটে কিশোর কিশোরীদের সামনে। উইলি বক্তৃতা দিত যাতে তার এই পরিণতি দেখে অন্য কোনো কিশোর অপরাধ করার সাহস না পায়।

    তবে প্রথম দিকে উইলি বিংহাম নির্লিপ্ত ভাবে তার বক্তৃতা দেয়। সে জোর দিয়ে কথা বলতো, হাসতো, জেদ দেখাতো। তবে কয়েক মাস পর একে একে কেটে ফেলা হলো তার ডান পা, একটা কিডনি, ও ফুসফুসের অংশও। প্রথম দিকে ভিকটিমের দুই বোন ও বাবা অপারেশনগুলো দেখতে আসলেও পরেরদিকে আসতো শুধু তার বাবা। বাবা প্রতিবার আসছিল, সাইন করছিল অনুমতি পত্রে ও নির্বিকার চোখে কাচের অন্যপাশে দাঁড়িয়ে সার্জারি দেখতো।

    ৫ মাস পর, পঞ্চম অস্ত্রোপচার করা হবে। এবার অপারেশন করে কেটে ফেলা হবে যৌনাঙ্গ। এসময় উইলি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পাগলের মতো কাকুতি-মিনতি করতে থাকে তাকে এ শাস্তি না দেয়ার। কিন্তু কাচের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ধর্ষিত মেয়েটির বাবা নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে থাকে। ভিকটিম বাবা এবারও ‘প্রসিড’ বলে সম্মতি দেন। অ্যানেস্থেশিয়ার ইনজেকশন পুশ করা হলো উইলির শরীরে… কেটে নেয়া হলো পুরুষত্বের অহংকার।

    এই অপারেশনের পর উইলি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। সে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। তার চোখে-মুখে কোনো অনুভূতির লেশমাত্র আর ছিল না। সে বেঁচে থেকেও একটা জ্যান্ত লাশে পরিণত হয়।

    এরপরের অপারেশনের দিন আসলো। উইলির দুই কান, নাক এবং জিহ্বার একটা অংশ কেটে ফেলা হলো। লেজার দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হলো শরীরের চামড়া। উইলির তখন ব্যথা বা যন্ত্রণার বোধও মরে গিয়েছিল। সে শুধু ইশারায় মৃত্যু চাইতে থাকে।

    এরপরের সার্জারির দিন অপারেশন থিয়েটারের টেবিলে পড়ে ছিল জ্যান্ত মাংসপিণ্ড। অবশেষে তৃপ্ত হলেন সেই মৃত মেয়ের বাবা। এবার সার্জারির জন্য ভিকটিমের বাবা অনুমতি দিলে উইলির হার্ট বা ব্রেন অপারেশন করা হবে। উইলির মৃত্যু ঘটবে, শাস্তি শেষ হবে।

    কিন্তু এবার বাবা আর পরবর্তী সার্জারির অনুমতি দিলেন না। তিনি বললেন তিনি সন্তুষ্ট, সার্জারি বন্ধ করতে চান। অ্যাটর্নি জর্জ মরটন একটি ফাইল দিলে বাবা সই করে জানিয়ে দেন, তিনি আর অস্ত্রোপচার চান না। শেষবারের মতো এক তীব্র ঘৃণার দৃষ্টি ছুড়ে দেন উইলির দিকে।

    এরপর উইলি বিংহাম জেলে বন্দি থাকতে শুরু করে। সে এক জীবন্ত মাংসপিণ্ডের স্তূপ, মৃত্যু পর্যন্ত হুইলচেয়ারে থাকতে হবে। সে শুনতে পায় না, ঘ্রাণ পায় না, স্বাদ পায় না । কিন্তু জীবন্ত। সারাদিন শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে ঘরের সিলিং এর দিকে। জর্জ মরটন তাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যান বিভিন্ন হাইস্কুলে। অবাধ্য ছাত্র-ছাত্রীরা দেখে বিকলাঙ্গ, বীভৎস মাংসপিণ্ডকে। অপরাধের শাস্তি পাওয়া এক জীবন্ত, ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত।

    তাকে দেখে সবাই আতঙ্কে আঁতকে ওঠে। সবাইকে রিয়েলাইজ করানো হয় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার শাস্তি কেমন হবে।

    লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক, স্বাধীন মিডিয়া

    আরও পড়ুন