১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • কী থাকছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে
  • কী থাকছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ণ

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক-এর খসড়া নিয়ে নতুন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৪ দফা সমঝোতা খসড়ায় ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত অর্থ ৬০ দিনের চূড়ান্ত আলোচনাকালীন সময়ে মুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

    সূত্রটি জানায়, এখন পর্যন্ত এটি খসড়ার সবচেয়ে বিস্তারিত প্রকাশিত সংস্করণ। এছাড়া জানা গেছে, প্রস্তাবিত চুক্তিটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে, যদিও এখনো তা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

    প্রস্তাবিত খসড়ায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা হলো-

    এদিকে প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা হলো-

    ১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের স্থায়ী ও অবিলম্বে অবসান।

    ২. ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি।

    ৩. ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।

    ৪. ইরান সংলগ্ন অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন না করার অঙ্গীকার।

    ৫. ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা।

    ৬. তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং ইরানের আর্থিক সম্পদে পূর্ণ প্রবেশাধিকার প্রদান।

    ৭. যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপন।

    ৮. পারমাণবিক ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া।

    ৯. পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে এনপিটি-তে ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত।

    ১০. আলোচনার সময় নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি না বাড়ানোর মার্কিন প্রতিশ্রুতি।

    ১১. আলোচনার ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত অর্থ মুক্ত করা; এর অর্ধেক আলোচনা শুরুর আগেই প্রদান।

    ১২. চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠন।
    ১৩. চূড়ান্ত চুক্তিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদন।

    ১৪. আলোচনার শুরু শর্তসাপেক্ষ-অর্থ মুক্তি, তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পরই চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বিষয়টি আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।

    এছাড়া নতুন তথ্য অনুযায়ী, খসড়ায় লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে অতিরিক্ত নিশ্চয়তা সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত খসড়াটি এখনো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

    সূত্র: মেহের নিউজ

    আরও পড়ুন