| |
  • প্রচ্ছদ
  • রাজনীতি
  • রাষ্ট্র পুনর্গঠনে প্রস্তুত বিএনপি
  • রাষ্ট্র পুনর্গঠনে প্রস্তুত বিএনপি

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

    আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণার শেষ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন আসনে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রেখেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনভর মতিঝিল, বাসাবো, বনানী, কলাবাগান ও ধূপখোলা মাঠের জনসভায় তিনি অংশ নেন। বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠনে বিএনপির প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ চালানোর সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই আছে।

    তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছরের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি বাছাই নয়, এটি বাংলাদেশ নতুন করে গড়ে তোলার দিন। বিএনপি জয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই আমরা উন্নয়নের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বো। নিচে বিভিন্ন জনসভায় তার দেওয়া বক্তব্যের মূল অংশগুলো তুলে ধরা হলো:

    ঢাকা-৮ (মতিঝিল): ‘দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই আছে’ মতিঝিল পীরজঙ্গি মাজার প্রাঙ্গণে মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান বলেন, এই মুহূর্তে যেই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন করছে, তার মধ্যে দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপির আছে। শুধু অভিজ্ঞতাই নয়, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সঠিক কর্মপরিকল্পনাও আমাদের আছে।

    তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এবং গৃহিণীদের জন্য মাসিক নগদ অর্থ সহায়তা বা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এছাড়া প্রবাসীদের জমি বিক্রি ঠেকাতে সরকারি উদ্যোগে স্বল্প সুদে ঋণের নিশ্চয়তা দেন তিনি।

    ঢাকা-৯ (বাসাবো): ‘কথা অনেক হয়েছে, ১৩ তারিখ থেকেই উন্নয়ন শুরু করতে চাই’ বাসাবো বালুর মাঠে হাবিবুর রশিদ হাবিবের পক্ষে আয়োজিত সভায় তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের পথ পেরিয়ে এখন দেশ গড়ার সময় এসেছে। অনেক কথা হয়েছে, এবার সব কথা বন্ধ করে কাজে নামতে হবে।

    ১২ তারিখ ধানের শীষ জয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই এই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও বাঁশের সেতুগুলো পাকা করার কাজ শুরু হবে। তিনি বিগত সরকারের আমলে পাচার হওয়া ১৬ বিলিয়ন ডলারের প্রসঙ্গ টেনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ঢাকা-১৭ (বনানী): ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠনে প্রস্তুত বিএনপি’

    বনানীর কামাল আতাতুর্ক খেলার মাঠে তারেক রহমান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপি একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়তে প্রস্তুত। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে মানুষ মূল্যায়ন পাবে।

    তিনি সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন, যারা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবেন। এছাড়াও ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ঢাকা-১০ (কলাবাগান): ‘অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপিকে নির্বাচিত করুন’

    কলাবাগান মাঠে রবিউল ইসলাম রবির পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকালের সফলতার উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষ কবলিত দেশে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করেছিলেন এবং খালেদা জিয়ার আমলে বাংলাদেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। এই ইতিহাসই প্রমাণ করে বিএনপি অভিজ্ঞতার আলোকে দেশ চালাতে সক্ষম। তাই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য ধানের শীষকে বেছে নিন।

    ঢাকা-৬ (ধূপখোলা): ‘বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি’। পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেনের সমর্থনে আয়োজিত সভায় তারেক রহমান ঐতিহ্যবাহী বুড়িগঙ্গা নদীকে পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বুড়িগঙ্গাকে আবার পরিচ্ছন্ন ও মানুষের গর্বের নদীতে পরিণত করা হবে। নারী শিক্ষার প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দেন তিনি।

    প্রচারণার শেষ মুহূর্তে তারেক রহমান দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশ আমাদের, দেশ গড়ার দায়িত্বও আমাদের। করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

    আরও পড়ুন