স্বাধীনতার বিনিময়ে দেশবাসী প্রকৃত অর্থে একটি লাল-সবুজ পতাকা ছাড়া আর তেমন কিছুই পায়নি বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাজি মো. ইবরাহীমের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও আজও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনমানে প্রত্যাশিত কোনো পরিবর্তন আসেনি।
স্বাধীনতার বিনিময়ে দেশবাসী প্রকৃত অর্থে একটি লাল-সবুজ পতাকা ছাড়া আর তেমন কিছুই পায়নি। বিগত সরকারের অতিমাত্রায় তাবেদারির কারণে ভারত বাংলাদেশকে তাদের একটি অঙ্গরাজ্য মনে করে ইচ্ছেমতো আচরণ করে যাচ্ছে, যার ফলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অতএব এদেশ পরিবর্তন করতে হলে তাকওয়াবান নেতা নির্বাচন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবং একটি মানবিক ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। ইসলামী অনুশাসন ব্যতীত ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রতীক হাতপাখায় ভোট দিন। তিনি বলেন, ক্ষমতার রঙিন স্বপ্ন দেখে একদল জনতাকে ধোঁকা দেওয়ার নীল নকশা করেছে। যারা নিজেদের সাথীদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করতে পারে তাদের হাতে ইসলাম ও দেশ নিরাপদ নয়।
ইসলামী আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতার সহজ রাস্তা বেছে নেয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও ইসলামী আন্দোলন রাজপথে গুলির মুখে দেশ রক্ষায় সর্বাগ্রে নেমে এসেছিল। ইসলামী আন্দোলন রাজনীতি করে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে। ইসলামের পক্ষে একবাক্স এখন হাতপাখার বাক্স। হাতপাখার বিজয়ের লক্ষ্যে বিরামহীন কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
ডেমরা ও যাত্রাবাড়ীর জনতার শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা-৫ আসনে হাজি মো. ইবরাহীমকে হাতপাখা প্রতীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা-৫ আসনে হাতপাখার প্রার্থী হাজি মো. ইবরাহীম তার বক্তব্যে বলেন, আমি আপনাদেরই সন্তান ইবরাহীম, আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৭নং ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। কাউন্সিলর হিসেবে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করেছি। এবার আপনাদের দোয়া, সমর্থন ও পরামর্শ নিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ, আধুনিক ও মানবিক ঢাকা-৫ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসাইন জাফরী, কেন্দ্রীয় ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী দেলওয়ার হোসাইন সাকী, কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার ও দফতর সম্পাদক কেএম শরীয়াতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য ডাক্তার শহীদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন ও ঢাকা-৫ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন।
অনুষ্ঠান শেষে পীর সাহেব চরমোনাই দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং ইনসাফ কায়েমের কামনায় মোনাজাতের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে জনসভার সমাপ্তি ঘটে।

































