পরিবেশ সুরক্ষায় সবুজ অর্থায়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বর্তমান সরকার পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বনভূমি সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সবুজ অর্থায়ন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
আজ (রবিবার) হংকং সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী সমাজ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সফরকালে তিনি হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নবনির্মিত ‘সুন্দরবন লাউঞ্জ’-এর উদ্বোধন করেন।
প্রতিমন্ত্রীর এ সফরে হংকংয়ে ‘ইকো এক্সপো এশিয়া ২০২৬’ ও ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ইনোভেশন কনফারেন্স’-এ অংশগ্রহণ করবেন। একই সফরে চীনের হুনান প্রদেশে সবুজ প্রযুক্তিবিষয়ক ফোরাম এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে এবং রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। তিনি পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখল রোধ এবং দখলকৃত বনভূমি উদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীর দূষণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ৪২৪টি পয়েন্ট থেকে এসব নদীতে দূষণ হচ্ছে। নদীদূষণ রোধের পাশাপাশি ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর গভীর আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি কার্বন ক্রেডিট এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের সম্ভাবনাও তুলে ধরেন।

মতবিনিময়ে মোংলা বন্দরের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ অর্থায়ন ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, নোয়াখালীতে ভূমিহীনদের বসতি ও বন বিভাগের জমিসংক্রান্ত সমস্যা এবং সদরঘাটের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে। দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সবুজ অর্থায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারপ্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বনভূমি সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সবুজ অর্থায়ন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের সুযোগগুলোকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। হংকংয়ে ‘ইকো এক্সপো এশিয়া ২০২৬’ ও ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ইনোভেশন কনফারেন্স’-এ তাঁর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এছাড়া চীনের হুনান প্রদেশে সবুজ প্রযুক্তি বিষয়ক ফোরাম এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।
বৃক্ষরোপণ ও নদীদূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপসরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে এবং গাছগুলোর পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখল রোধের পাশাপাশি দখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীর দূষণ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, অন্তত ৪২৪টি পয়েন্ট থেকে এসব নদীতে দূষণ ঘটছে। নদীদূষণ রোধের পাশাপাশি ইটভাটার ওপর নির্ভরতা কমাতে ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া কার্বন ক্রেডিট এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
সভায় আলোচিত অন্যান্য বিষয়
মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দরের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ অর্থায়ন এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, নোয়াখালীতে ভূমিহীনদের বসতি ও বন বিভাগের জমিসংক্রান্ত সমস্যা এবং সদরঘাটের পরিচ্ছন্নতা বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে। দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
উক্ত মতবিনিময় সভায় হংকংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুরসহ কনস্যুলেটের অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

























