| |
  • প্রচ্ছদ
  • জলবায়ু ও পরিবেশ
  • চরম বিপর্যয়ের মুখে ষড়ঋতুর বাংলাদেশ
  • জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা

    চরম বিপর্যয়ের মুখে ষড়ঋতুর বাংলাদেশ

    Icon
    মোঃ শরীফুল ইসলাম
    প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

    একসময় ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য নিয়ে গর্বিত বাংলাদেশ আজ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাবের মুখে। আবহাওয়ার চরম অস্বাভাবিকতা ও অনিয়মিত আচরণের কারণে দেশের চিরাচরিত ছয়টি ঋতুর চেনা রূপ ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে।

    ক্যালেন্ডারের পাতা অনুযায়ী ঋতু পরিবর্তন হলেও বাস্তবে অনুভূত হচ্ছে কেবল তীব্র দাবদাহ, আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা কিংবা খরা।

    ঋতু ঐতিহ্যগতরূপ বর্তমান বাস্তব চিত্রঃ

    ১/ গ্রীষ্মকাল সহনীয় তাপ ও বৈশাখী ঝড় দীর্ঘমেয়াদী তীব্র তাপপ্রবাহ ও তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।

    ২/ বর্ষাকাল সময়মতো নিয়মিত ও পরিমিত বৃষ্টি অনিয়মিত ও অতিবৃষ্টির ফলে আকস্মিক উপকূলীয় ও সমতল বন্যা।

    ৩-৪/ শরৎ ও হেমন্ত মেঘমুক্ত আকাশ, নদীর পাড়ে কাশফুল স্থায়িত্ব কমে বিলুপ্তির পথে, তাপদাহ ও অকাল বৃষ্টির প্রভাব।

    ৫/ শীতকাল দীর্ঘ ও ধারাবাহিক শৈত্যপ্রবাহ শীতের স্থায়িত্ব হ্রাস, শৈত্যপ্রবাহের অনিয়মিত চরম রূপ

    ৬/ বসন্তকাল মৃদু বাতাস ও সুষম আবহাওয়া প্রায় অনুভূতির বাইরে, অকালেই গ্রীষ্মের উত্তাপ শুরু

    প্রধান ক্ষতিকর প্রভাবসমূহঃ

    ​কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকেত: নির্দিষ্ট সময় বর্ষা না হওয়া এবং চাষাবাদের মৌসুমে খরা বা অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যার কারণে ধানের চারা রোপণ ও ফসল কাটার চিরচেনা হিসাব বদলে গেছে।

    ​প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বৃদ্ধি: বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও লবণাক্ততা বাড়ছে।

    ​জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংকট: তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সুন্দরবনসহ উপকূলীয় জলাভূমির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে বিপন্ন হচ্ছে হাজারো বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম।

    ​স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি: অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে দেশের শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষমতা কমে বিলিয়ন ডলার মূল্যের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও রোগব্যাধি বাড়ছে।

    ​পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা এবং দেশজুড়ে ব্যাপক বনায়ন না করা গেলে ষড়ঋতুর ঐতিহ্য কেবল বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

    আরও পড়ুন