| |
  • প্রচ্ছদ
  • Uncategorized
  • বাংলাদেশি কর্মী নিতে একমত হয়েছে মালয়েশিয়া
  • বাংলাদেশি কর্মী নিতে একমত হয়েছে মালয়েশিয়া

    Icon
    কূটনৈতিক প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
    বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

    বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (জিরো কস্ট) নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে মালয়েশিয়া। বিমান ভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মীর প্রথম বহর সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

    মন্ত্রণালয় বলছে, এসব বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার অনুরোধ জানিয়েছে, ওই তালিকার মধ্যে যারা আগের সরকারের সময়ে বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বাদ দিয়ে অন্য এজেন্সিগুলোকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হোক।

    মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচিত করেছে। পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

    এর সঙ্গে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলও যথারীতি এ প্রক্রিয়ায় কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর যাচাই-বাছাই করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

    ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। ওই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।

    শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারগুলো পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে মেডিকেল সেন্টারগুলো সরেজমিন পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

    এ কারণে প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত তালিকা থেকে বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমবাজার চালুর পর যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলো যাচাই-বাছাই করবে। এরপর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

    বাংলাদেশি কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

    অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দালাল ও প্রতারক চক্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো শুরু হবে, সে বিষয়ে কার্যক্রম এখনো প্রক্রিয়াধীন। যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। তাই মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট কিংবা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আরও পড়ুন