দীর্ঘ চার দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, ত্যাগ আর সংগ্রামের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় রাজপথে দলের মূল কান্ডারি হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার পর এবার তিনি আসীন হতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ—বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতি হিসেবে।জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার বিজয় কেবল সময়ের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
জীবনের বাঁক বদল: ছাত্র আন্দোলন থেকে বঙ্গভবন”শিক্ষকতা ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের মূল ভিত্তি তৈরি করেছিলেন মির্জা ফখরুল। “ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষকতা: ১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
স্বাধীনতার পর ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় রাজনীতি: ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হন। সংগ্রামের কান্ডারি: দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় একাধিকবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হয়েও তিনি দলকে অবিচল রেখেছিলেন।
রাষ্ট্রপতির দৌড়ে ঐতিহাসিক পদক্ষেপরাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন লাভের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। নীতিগত দিক ও সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রেখে দলের প্রধান পদের দায়িত্ব ছেড়ে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়াকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।
বিগত কয়েক দশকের রাজনৈতিক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এক সৎ, সজ্জন ও অভিজ্ঞ অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদে তার এই সম্ভাব্য উত্তরণকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
































