ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও শনিবার (২০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর দেখল এক ভিন্ন রূপ। ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে যখন উৎসবে মাতোয়ারা ব্রাজিলের সমর্থকরা, তখন সেই আনন্দের জোয়ারে গা ভাসাতে দেখা গেল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থকদেরও।
মাঠের লড়াইকে ছাপিয়ে ফুটবলের সৌন্দর্য ও সৌহার্দ্যই যেন আজ প্রধান হয়ে উঠেছিল টিএসসি চত্বরে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা ব্যাকফুটে থাকা ব্রাজিল আজ শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক।
ম্যাচের রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো টিএসসি এলাকা। আর এই আনন্দ-উৎসবে ব্রাজিলের সমর্থকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায় আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত কিছু ভক্তদেরও।
ম্যাচ দেখতে আসা আর্জেন্টিনার সমর্থক জাকির হোসেন কথার লড়াই আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৌন্দর্য তুলে ধরে বলেন, সত্যি বলতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার যে দ্বৈরথ, এটা ফুটবলের সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে কোনো মজা থাকে না।
মাঠে ফুটবলের লড়াই, মাঠের বাইরে কথার লড়াই, এটাই আসলে বিশ্বকাপের মূল আনন্দ। ব্যক্তিগতভাবে দল পছন্দ থাকতেই পারে, তবে আজ ব্রাজিল জয় পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। তবে আমি চাই সামনে একটি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ হোক। সেখানে আমরা ব্রাজিলকে হারাতে চাই।
ব্রাজিলের এই ঘুরে দাঁড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অন্য আলবিসেলেস্তে সমর্থকরাও। তারা মনে করেন, বড় দলগুলো ছন্দে থাকলে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ বহুগুণ বেড়ে যায়। জাকির হোসেন আরও যোগ করেন, ব্রাজিল বড় দল। এই ম্যাচে তারা ঘুরে দাঁড়াবে, এমন বিশ্বাস আমাদের ছিল। তাদের সময়টা ভালো যাচ্ছে না, তবে সামনে তারা আরও ভালো খেলবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ব্রাজিল ভালো করলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ভালো হবে, লড়াইটা জমজমাট হবে। তখন খেলার মজা আরও বাড়বে।
হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের এই দাপুটে জয়ে শুধু সাধারণ সমর্থকরাই নন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে এর মধ্যেই ব্রাজিলের চিরচেনা সাম্বা ফুটবলের ছন্দ নিয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃদুল।
তিনি বলেন, ব্রাজিল তো জিতেছে, তবে ব্রাজিলের সেই ‘জোগো বনিতো’ (শৈল্পিক ফুটবল) আজ দেখা যায়নি। দল হিসেবে তারা ভালো খেলেছে, কিন্তু সাম্বা ফুটবলের যে ঐতিহ্যগত সৌন্দর্য, সেটির কিছুটা অভাব ছিল।
অন্যদিকে ঢাবির আরেক শিক্ষার্থী রাকিব ব্রাজিলের খেলায় দারুণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ব্রাজিলের আজকের খেলা সত্যিই অসাধারণ ছিল। প্রথমার্ধ থেকেই তারা যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আমরা ফুটবলপ্রেমী হিসেবে একটি দারুণ ম্যাচ উপভোগ করেছি।
তর্ক-বিতর্ক, কথার লড়াই আর হালকা খোঁচাখুঁচি থাকলেও সামগ্রিকভাবে হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের এই জয়ের দিনে টিএসসির পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ।

























