| |
  • প্রচ্ছদ
  • নির্বাচন
  • প্রার্থীরা নিতে পারবেন না ভোটারের এনআইডি-মোবাইল নম্বর: ইসি
  • প্রার্থীরা নিতে পারবেন না ভোটারের এনআইডি-মোবাইল নম্বর: ইসি

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ ভোটারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করতে পারবেন না। একইসঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএসে লেনদেনের জন্য ভোটার কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বরও সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    নির্বাচনী আচরণবিধিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) রাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন-ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এর নির্বাচনী আচরণ বিধির গেজেটে এই বিধান জারি করে নির্বাচন কমিশন।

    এর আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই বিধান জারি করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কেউ কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না।

    একইসঙ্গে ভোটার বা তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। এমএফএসে লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটার কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

    ফলে ভোটারকে প্রভাবিত করার জন্য অর্থের ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা করার সুযোগ থাকছে না। বিধানটিতে ভোটারের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    আচরণবিধিতে মসজিদ, মন্দির, ক্যায়াং, প্যাগোডা, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে কোনো সরকারি অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।

    তবে শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে কোনো নাগরিকের জমি, ভবন বা অন্য কোনো স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করা যাবে না। অনভিপ্রেত গোলযোগ বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে কারও শান্তি বিনষ্ট করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

    কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ কিংবা অর্থ ব্যয় করা যাবে না। অর্থাৎ ভোট আদায়ের জন্য সরাসরি অর্থের ব্যবহার যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি ভয়ভীতি বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেও ভোটারকে প্রভাবিত করা যাবে না।

    কমিশনের অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে বিস্ফোরক, বিস্ফোরক দ্রব্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত বিস্ফোরক ও অস্ত্রসংক্রান্ত আইনে সংজ্ঞায়িত সামগ্রী নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

    ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি মাইক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি। আর উপজেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপজেলার অধীন একটি ইউনিয়ন বা পৌরসভায় একই সময়ে পথসভা বা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান একটির বেশি মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না।

    নির্বাচনী এলাকায় দুপুর ১২টার আগে এবং সূর্যাস্তের পর মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো যাবে না। প্রচারে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মাত্রাও ৬০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না।নির্বাচনপূর্ব সময়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। আচরণবিধিতে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

    সেপ্টেম্বরেরই ইউপি নির্বাচনের তফসিল দিয়ে নভেম্বরে ভোট করা লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ইসি। এক্ষেত্রে অন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে ভোট করা হবে।

    আরও পড়ুন