যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ অবরোধের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটির বেশি জ্বালানি ব্যবহারকারীদের জন্য পেট্রোলের দাম দ্বিগুণ করা হচ্ছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমে মহাজেরানি জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে পেট্রোলের তৃতীয় ধাপের দাম প্রতি লিটারে ৫ হাজার তোমান থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার তোমান করা হবে। তবে মাসিক কোটার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের দাম অপরিবর্তিত থাকবে।
ইরানের জ্বালানি ব্যবস্থায় মাসে প্রথম ৬০ লিটার পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ১ হাজার ৫০০ তোমান। পরবর্তী ৫০ লিটারের জন্য প্রতি লিটারে ৩ হাজার তোমান দিতে হয়। ১১০ লিটারের বেশি ব্যবহার করলে এতদিন প্রতি লিটারে ৫ হাজার তোমান দিতে হতো। এখন ওই তৃতীয় ধাপের দাম দ্বিগুণ করা হচ্ছে।
সরকারি মুখপাত্র বলেন, জ্বালানির দাম নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা বিবেচনায় নিয়ে তৃতীয় ধাপের দাম ১০ হাজার তোমান নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরানে পেট্রোলের দাম দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে কম রাখা হয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি দেশটির জন্য রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বলে মনে করা হয়। এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সংকটের মধ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিল।
এদিকে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দরও দ্রুত কমছে। রোববার দেশটির খোলাবাজারে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের বিনিময়মূল্য ২২ লাখের বেশি রিয়ালে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর ছিল প্রায় ১৭ লাখ।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের তেল রপ্তানি কমিয়ে আনতে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ জোরদার করছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি

























