এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দিয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরদিন মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে এ বার্তা দেন তিনি। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
এ বছর পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, প্রিয় শিক্ষার্থীরা, যারা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারোনি, আজ তোমাদের উদ্দেশে কিছু কথা বলতে চাই। আমি জানি, আজকের দিনটি তোমাদের জন্য খুবই বেদনার আর হতাশার।
বন্ধুদের আনন্দ, পরিবারের নীরবতা আর নিজের ভেতরের অস্বস্তি-সব মিলিয়ে মনে হতে পারে সবকিছু বুঝি থেমে গেল। না, থামেনি। কিছুই থামেনি। তিনি আরও লিখেছেন, আজকের ফলাফল তোমার পরিচয় নয়। এটি কেবল পরীক্ষার সেই নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় তোমার খাতায় লেখার একটা হিসাব মাত্র। তোমার পরিশ্রম, তোমার স্বপ্ন-এসবের কোনো নম্বর হয় না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি অনুভব করতে পারি, এই সময়টা তোমাদের জন্য কত কষ্টকর। আমি নিজেও তোমাদের এই কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করছি। প্রতিবেশীর কৌতূহল, আত্মীয়ের তুলনা, সহপাঠীদের উপেক্ষা—সব মিলিয়ে তোমাদের ওপর হয়তো এক গভীর হতাশা ভর করেছে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, আপনার সন্তান হয়তো আজ সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে আপনার মুখের দিকে তাকাতে। এই মুহূর্তে আপনার একটি কঠিন বাক্য, উপেক্ষা, ভর্ৎসনার চেয়ে দরকার একটু আদর, স্নেহময় কথা। ঘরটিকে ওর জন্য আদালত নয়, আশ্রয় করে তুলুন।
শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দিন। কেন সে পিছিয়ে পড়ল, সেই কারণ খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব; ব্যর্থতার দায় কেবল শিশুটির নয়, আমাদেরও।
সবশেষে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, তোমার জীবনের গল্প আজ শেষ হয়নি। একসময় দেখবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এখনো লেখা হয়নি। অনেক দিন পরে যখন তুমি জীবনে সফল হবে, তখন আজকের দিকে তাকিয়ে দেখো-মনে হবে, অযথাই তুমি হতাশ হয়েছিলে।
আমি বিশ্বাস করি, তোমরা একদিন এই দুর্ভাগা দেশকে নক্ষত্রের পথে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। তোমাদের সেই যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তোমাদের পাশে আছে, ছিল, থাকবে।
























