| |
  • প্রচ্ছদ
  • জলবায়ু ও পরিবেশ
  • জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে সিলেটের কৃষি জমি
  • জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে সিলেটের কৃষি জমি

    Icon
    মোঃ শরীফুল ইসলাম
    প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

    ​জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেটে। অসময়ে বন্যা, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং অন্যদিকে তীব্র খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলের কৃষি জমি ও ফসল উৎপাদন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় লাখো কৃষক।

    ​কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিলেটের আবহাওয়া আচরণ করছে চরম বৈরী। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক বন্যার (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) কারণে বারবার তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ও আমন ধানের ক্ষেত। পানি নেমে যাওয়ার পরও জমিতে বালুর আস্তরণ পড়ে থাকায় বহু জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

    ​প্রধান যে সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে:
    বর্ষা মৌসুম আসার আগেই হুট করে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে তলানি অঞ্চলের ফসল। আবার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় পচে যাচ্ছে শত শত হেক্টর জমির ফসল।

    পাহাড়ি ঢলের সাথে আসা বালু ও পলি কৃষি জমিতে জমা হচ্ছে। ফলে উর্বর মাটি ঢেকে গিয়ে জমি চিরতরে অনুর্বর হয়ে পড়ছে।

    সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া এবং শীতের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ার কারণে ফসলের জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে। বোরো মৌসুমে তীব্র খরার কারণে সেচ খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।

    ​সিলেটের কানাইঘাট এলাকার একজন ভুক্তভোগী কৃষক জানান, “আগে আমরা বুঝতাম কখন বৃষ্টি হবে, কখন বন্যা হবে। এখন কার্তিক মাসেও বন্যা হয়, আবার চৈত্র মাসে নদী শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। পরপর কয়েকবার ফসল হারিয়ে আমরা এখন ঋণের ঋণে জর্জরিত।”

    ​কৃষি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধাক্কা সামলাতে সনাতন পদ্ধতি পরিবর্তন করা জরুরি।

    ​”সিলেট অঞ্চলে এখন জলবায়ু সহনশীল ও স্বল্পমেয়াদি ফসলের জাত (যেমন: বন্যা সহনশীল ধান) চাষ বাড়াতে হবে। একই সাথে নদী ও হাওরগুলোর নাব্যতার উন্নয়ন এবং সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে আগামীতে এই অঞ্চলে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।”

    ​সরকারিভাবে কৃষকদের প্রণোদনা, আপদকালীন বীজ সরবরাহ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যথায়, ঐতিহ্যবাহী এই শস্যভাণ্ডার অচিরেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    আরও পড়ুন