| |
  • প্রচ্ছদ
  • জলবায়ু ও পরিবেশ
  • জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি জমি
  • জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি জমি

    Icon
    মোঃ শরীফুল ইসলাম
    প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন

    ​বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের কৃষি খাতের ওপর। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অনিয়মিত আবহাওয়া এবং লবণাক্ততার আগ্রাসনে প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ হেক্টর আবাদি জমি। খাদ্য নিরাপত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতিকে এখন দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ​কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যমতে, জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে প্রধানত তিনটি উপায়ে কৃষি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে:
    ​১. উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন
    ​সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে (যেমন: সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা) জোয়ারের নোনা জল সহজেই লোকালয়ে ও কৃষি জমিতে প্রবেশ করছে। জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে আমন ও বোরো ধানের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় বছরের পর বছর ধরে কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না, যা স্থানীয় কৃষকদের বাধ্য করছে পৈত্রিক পেশা ছেড়ে দিতে।

    ​২. অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তীব্র খরা
    ​বর্ষা মৌসুমে যখন পর্যাপ্ত বৃষ্টির প্রয়োজন, তখন দেখা দিচ্ছে তীব্র খরা; আবার অসময়ে হচ্ছে রেকর্ডভাঙা অতিবৃষ্টি। এই অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল তথা বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলের স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে সেচ সংকটে পড়ে বিঘ্নিত হচ্ছে রবি শস্য ও বোরো চাষ।

    ​৩. আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙন
    ​হাওর অঞ্চলসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগাম পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) পাকা ধান তলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে, তীব্র নদীভাঙনের ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার একর উর্বর পলিমাটি সমৃদ্ধ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

    জলবায়ু গবেষক ও পরিবেশবিদ রেজওয়ানা হাসানের মতে, এখনই যদি লবণাক্ততা-সহনশীল এবং খরা-সহনশীল ফসলের জাত ব্যাপকভাবে মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া না যায়, তবে আগামী এক দশকে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেতে পারে।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন: ব্রি ও বাড়ি) কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যা ও লবণাক্ততা-সহনশীল কিছু ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। তবে জলবায়ুর এই দ্রুত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক সময়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

    আরও পড়ুন