১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে: ট্রাম্প
  • হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে: ট্রাম্প

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ণ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আবারও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ‘জাহাজগুলো চলাচল শুরু করেছে, এর মধ্যে অনেকগুলো তেলবোঝাই জাহাজও রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে।

    এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই শুক্রবার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

    যদিও চুক্তির আনুষ্ঠানিক পাঠ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, উভয় পক্ষ জানিয়েছে প্রাথমিক সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ করা হবে।

    তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়গুলো ৬০ দিনের আলোচনায় নিষ্পত্তির জন্য রাখা হয়েছে।

    ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “জাহাজগুলো দক্ষিণের ‘হাইওয়ে’ দিয়ে চলাচল করছে, যা সম্পূর্ণ নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং নির্বিঘ্ন। তিনি ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি নৌপথের কথা উল্লেখ করেন, যা সামুদ্রিক মাইনের কারণে আগে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘চলাচলের জন্য আরও কিছু পথও রয়েছে।

    তবে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক পরামর্শবার্তায় বলা হয়েছে, শুক্রবার নির্ধারিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। বার্তায় বলা হয়, ‘ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়া সব ধরনের নৌযান চলাচলের ওপর সামরিক অবরোধ কার্যকর রয়েছে। স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কেউ পারাপারের চেষ্টা করবেন না।’

    সম্ভাব্য চুক্তির ইতিবাচক খবরে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরলেও, বিশ্লেষকদের মতে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শিপিং ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাইন অপসারণ কার্যক্রম শেষ হতে ৪০ থেকে ৫০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এরপরই অনেক বিমা ও জাহাজ পরিবহন কোম্পানি এ পথ ব্যবহারে আস্থা ফিরে পাবে। তবে কিছু কোম্পানি এর আগেই চলাচল শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

    ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব শিপিং জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৫০০ জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক বিভিন্ন জাহাজে আটকা পড়ে আছেন। ট্রাম্প বলেছেন, সোমবার ফ্রান্সে শুরু হওয়া জি-৭ সম্মেলনে তিনি মাইন অপসারণ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করবেন।

    এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, সংঘাত চলাকালে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মোট ৪৬টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে ভবিষ্যতে এই জলপথের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবেই খোলা ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে যে হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার। তেহরান চাইলে পথটি বন্ধ করতে পারে অথবা জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আরোপ করতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার সিএনবিসিকে বলেন, তিনি আশা করেন দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালী ‘কোনো ধরনের টোল ছাড়াই’ উন্মুক্ত থাকবে। বিষয়টি কারিগরি আলোচনায় নিষ্পত্তি হবে বলেও জানান তিনি।

    অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই জলপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য আমাদের কিছু সময় প্রয়োজন।’

    এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, সমঝোতা স্মারকটি ইতোমধ্যে রোববার ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে চুক্তির শর্তগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

    সুত্রঃ আল জাজিরা

    আরও পড়ুন