| |
  • প্রচ্ছদ
  • রংপুর
  • জালিয়াতি করে ইমামের ভাতা নিল জামায়াত নেতা
  • জালিয়াতি করে ইমামের ভাতা নিল জামায়াত নেতা

    Icon
    জেলা প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন

    রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের ইমাম না হয়েও সরকার ঘোষিত ভাতা নিজের নামে গ্রহণ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াতে ইসলামীর নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলিখিয়ার জামে মসজিদে।

    এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, মসজিদ কমিটি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে ওই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    সরকার ঘোষিত ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খাদেমদের জন্য ভাতা প্রকল্পে ২০২৬ সালের তালিকা প্রণয়নের সময় খাদেম ও মোয়াজ্জেমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ইমামের নাম বাদ পড়ে যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, ওই তালিকায় ইমামের তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন সেক্রেটারি নয়ন মিয়ার নাম যুক্ত করা হয় এবং সেই ভিত্তিতে তিনি ভাতার অর্থ আত্মসাৎ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চতরা আহমদিয়া মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সরকার থেকে যখন তালিকা চাওয়া হয়, তখন তারা নিয়ম অনুযায়ী নাম পাঠান। কিন্তু পরে দেখা যায় ইমামের নাম বাদ পড়ে গেছে এবং সেখানে নয়ন মিয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    তার দাবি, বিষয়টি অনেককে হতবাক করেছে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে এ ঘটনায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। আমরা যার পেছনে নামাজ পড়ি না, তার নাম ভাতার তালিকায় জালিয়াতির মাধ্যমে তোলা অপরাধ। আমরা চাই, এটার একটা সুষ্ঠু তদন্ত হোক। প্রকৃতপক্ষে যে ইমাম তিনিই থাকুক।

    মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ওই মসজিদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার অভিযোগ, হঠাৎ করেই নয়ন মিয়া তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করে ভাতা গ্রহণ করেন, ফলে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেন।

    অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন সেক্রেটারি নয়ন মিয়া বলেন, ওই মসজিদে পেশ ইমাম নির্ধারিত ছিল না। স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতেই আমার নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি নন। কাজটা আটকানোর জন্য আমাকে পেশ ইমাম করেছে। কারণ, এখানে যিনি আছেন, তিনি খতিব। তাকে পেশ ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

    এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। তিনি জানান, অভিযোগ আসা মানেই দোষ প্রমাণ নয়, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

    আরও পড়ুন