রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা (আইইডি) জনসমক্ষে বিস্ফোরিত হলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্র জানায়, একটি খয়েরি রঙের ছাতার সঙ্গে বোমাটি এমনভাবে সংযুক্ত করা হয়েছিল যে, কেউ সেটি একটু জোরে নাড়াচাড়া করলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। ব্যস্ত এলাকায় রাখা এ বিস্ফোরকটি সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিল। উদ্ধার হওয়া পাইপ বোমার ভেতরে অসংখ্য ছোট বিয়ারিং বল ও পেরেক ভরা ছিল।
বিস্ফোরণ ঘটলে এসব ধাতব বস্তু উচ্চগতিতে চারদিকে ছিটকে গিয়ে আশপাশে থাকা মানুষের শরীরে আঘাত হানতে পারত। এতে ব্যাপক হতাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। প্রাথমিকভাবে এটিকে হাতে তৈরি পাইপ বোমা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, সন্ধ্যার পর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সড়কে একটি ছাতার ভেতরে বোমা সদৃশ বস্তু রাখা আছে– এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে।
পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল গিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করে। এসময় ওই সড়কে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাশকতার উদ্দেশ্যেই বিস্ফোরকটি সেখানে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
ডিএমপির সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকটি আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইইডি হলো দেশীয় বা নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র, যা সাধারণত নাশকতা, আতঙ্ক সৃষ্টি বা জনবহুল স্থানে ক্ষয়ক্ষতির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকটিও একই ধরনের হাতে তৈরি আইইডি। এতে বৈদ্যুতিক ডিভাইস সংযুক্ত ছিল এবং ভেতরে বিয়ারিং বল ও পেরেক রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণ ঘটলে এগুলো চারদিকে ছিটকে গিয়ে গুরুতর আহতের কারণ হতে পারত। এ কারণে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য নাশকতার চেষ্টা হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, বোমাটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করার সময় মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামে এক পথচারী আহত হন বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্প।
মিরাজ পুলিশকে জানান, তিনি মতিঝিলের আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী। রাতে মেট্রোরেল স্টেশনের পাশ দিয়ে বাসায় ফেরার পথে বোমা নিষ্ক্রিয়করণের সময় সৃষ্ট বিস্ফোরণের একটি স্প্লিন্টার তার বাম চোখের নিচে আঘাত করে। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।























