| |
  • প্রচ্ছদ
  • শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  • ডাকসু নিয়ে জামায়াত নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে ঢাবির প্রতিবাদ
  • ডাকসু নিয়ে জামায়াত নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে ঢাবির প্রতিবাদ

    Icon
    ঢাবি প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

    দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডা’ ও ‘বেশ্যাখানা’ ছিল বলে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসানের দেওয়া বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তার বক্তব্যকে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অর্বাচীন উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. শামীম আহসানের এ ধরনের বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম, ঐতিহ্য ও সম্মানকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অর্বাচীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    এর আগে গতকাল শনিবার রাতে পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান। তিনি বলেন, যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।

    ডাকসু নির্বাচনে যদি ছাত্রশিবির ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে আগামী নির্বাচনেও জামায়াত ক্ষমতায় যাবে, ইনশাআল্লাহ। তখন বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজি, সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম হবে। তিনি এও বলেন, ডাকসুতে যদি জামায়াত ইসলামীর ছাত্রশিবির ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামীও ক্ষমতায় যেতে পারে ইনশাআল্লাহ।

    বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কথা পাল্টে ফেলেন শামীম আহসান। তিনি বলেন, আমি বলেছি, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে নানা সমস্যা ছিল। ইসলামী ছাত্রশিবির তার সমাধান করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বেশ্যাখানা ছিল এমন বক্তব্য দিয়েছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে ‘আমি মোটরসাইকেলে আসছি’ বলে সংযোগটি কেটে দেন।

    রোববার অবশ্য তিনি বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশও করেছেন। শামীম তার ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্টে বলেন, ‘গত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটায় এক নির্বাচনী জনসভায় আমার এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অনেকেই মর্মাহত হয়েছেন।

    উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকসেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে জাগোনিউজ -এ ‘দিনে মাদকসেবীদের আড্ডা, রাতে যৌনকর্মীদের দখলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর মাদকসেবনে জড়িত থাকার ঘটনাও সামনে এসেছে এবং সে সময় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

    তিনি বলেন, ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগে বর্তমানে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে আমরা পত্রপত্রিকায় দেখেছি। এই বিষয়টি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমার শব্দচয়ন ও প্রকাশভঙ্গিতে অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল হয়েছে। এ রকম অনভিপ্রেত ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আরো দায়িত্বশীল ও সমীচীন ভাষা ব্যবহার করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

    জামায়াতের এ নেতা আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সর্বশেষ, জুলাই অভ্যুত্থানেও তাদের ভূমিকা আমাদের নতুন এক বাংলাদেশ এনে দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক বক্তব্যে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একে অপরের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’

    আরও পড়ুন