জাতীয় সঞ্চয়পত্রের পাঁচটি সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার কমানো থেকে সরে এসেছে সরকার। আগের মুনাফা হারই থাকছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে এ সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
চারদিনের মাথায় সরকার সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। গত মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্রের এসব কর্মসূচি থেকে মুনাফার হার কমানোর ঘোষণা করা হয়েছিল। রোববার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগের সুদের হার সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে আগের মতোই ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
৩০ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী জুন পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা এর চেয়ে কম বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ; সর্বনিম্ন ধরা হয়েছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ ধরনের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। সর্বশেষ ৪ জানুয়ারি-রোববারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ বছরের বিনিয়োগে আগের মতোই মিলবে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদ। এছাড়া বিনিয়োগের মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হারে ভিন্নতা রয়েছে।
পরিবার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
জুলাই মেয়াদে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে এমন বিনিয়োগে সুদের হার কমিয়ে করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এখন আগের জুলাইয়ের হারেই সুদ মিলবে।
রোববারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগের সুদের হার সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে আগের মতোই ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগ হলে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। বিনিয়োগ সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে তিন বছর মেয়াদে সাড়ে সাত লাখ টাকার বিনিয়োগের সুদহার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।এছাড়া প্রবাসীদের জন্য বন্ডে বিনিয়োগসহ অন্যান্য বিনিয়োগের হারও আগের মতোই থাকবে।
সরকার ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রে সুদহার ঘোষণা করে। তবে সুদহার বদলালেও যখন যে স্কিমে বিনিয়োগ করা হবে, সেটির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেনার সময়কার সুদহারই বহাল থাকে। এবার ৩০ ডিসেম্বর কমানোর পর আবার স্থগিত করলো নতুন সুদ হার। বহাল থাকলো গত বছরের জুলাইয়ে নির্ধারিত হার।

































