ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ইতিবাচক ব্যাটিং করছিলেন বাঁ-হাতি ব্যাটার মুমিনুল হক। সকালে ক্যারিবীয় পেসারদের সুইংয়ের সামনে বাংলাদেশ যেখানে কিছুটা ব্যাকফুটে ছিল, সেখান থেকে ইনিংস গুছিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও, ইনিংস খেলার পথেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুমিনুল।
বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১,০০০ (১১ হাজার) রানের ক্লাবে প্রবেশ করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। এই মাইলফলক ছুঁতে ম্যাচে নামার আগে মুমিনুলের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১ রান। ম্যাচের ১৩তম ওভারে পেসার রস্টন চেজকে সুইপ করে জোড়া রান নেওয়ার মাধ্যমেই এই অভিজাত ক্লাবে নিজের নাম লেখান তিনি।
তানজিদ হাসান তামিমের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে শামার জোসেফের ১৪৬-১৪৭ কিলোমিটার গতির বাউন্সার ও ভেতরে ঢোকা দারুণভাবে সামলেছেন এই বাঁ-হাতি এই ব্যাটার।
জাইডেন সিলসের সুইংও সামলেছেন বেশ ভালোভাবে। শুরুর দিকে রান নেওয়ার চেয়ে উইকেট আগলে রাখাতেই মনোযোগ ছিল তার।রস্টোন চেজ আক্রমণে আসার পর অবশ্য রান তোলার গতি বাড়ান মুমিনুল।
দশম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরে একটু খাটো বলে দারুণ কাট শটে পয়েন্টের পাশ দিয়ে মারেন প্রথম চার। পরের ওভারগুলোতেও স্পিনের বিপক্ষে কখনো সুইপ, কখনো ফাঁকা জায়গায় বল ঠেলে রান বের করেছেন।
চেজের বলে সুইপে চার মারার পাশাপাশি একটি ওভারে দুটি দুই রানও নেন তিনি।১১ হাজার প্রথম শ্রেণির রানও পূর্ণ করেন এই ইনিংসের পথে। তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই ক্লাবে যোগ দিলেন মুমিনুল।
এর আগে এই কীর্তি ছিল বর্তমানে নির্বাচক প্যানেলের সদস্য নাঈম ইসলাম ও খুলনা বিভাগীয় দলের বর্তমান হেড কোচ তুষার ইমরানের। ১৮২ ম্যাচে ৩২ সেঞ্চুরি আর ৬৩ ফিফটিতে ১১৯৭২ রান করে সবার উপরে তুষার।
আর নাঈম করেছেন ১৮৪ ম্যাচে ৩৪ সেঞ্চুরিতে ১১২৫০ রান। আর ১৬৯ ম্যাচে ২৯ সেঞ্চুরিতে মুমিনুলের ব্যাট থেকে এসেছে ১১০১৭ রান।ব্যাটিংয়ে নামার আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে মাত্র ১১ রান প্রয়োজন ছিল মুমিনুলের।
১৩তম ওভারে রোস্টন চেজকে সুইপ করে ডাবল নেন তিনি, তাতেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১১ হাজার রান টপকে যান।ইনিংসের মধ্যে পেসার জাস্টিন গ্রিভসের বিপক্ষে আবার ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন মুমিনুল। টানা দুই মেডেন ওভারে তাকে আটকে রাখলেও উইকেট দেননি। কখনো বল ছেড়েছেন, কখনো দারুণভাবে ডিফেন্স করেছেন।
২১ ওভার শেষে ৪৯ বলে ২৮ রানে অপরাজিত মুমিনুল। পরের ওভারেই অবশ্য অহেতুক উইকেট ছুড়ে দেন তিনি।জোমেল ওয়ারিকানের মিডল ও অফ স্টাম্প বরাবর হাওয়ায় ভাসানো বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মুমিনুল।
মুমিনুলের আগে এই বিরল রেকর্ডের মালিক হয়েছেন মাত্র দুইজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার—সাবেক জাতীয় দলের তারকা ও বর্তমান হেড কোচ তুষার ইমরান (১-এ অবস্থান) এবং জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য নাঈম ইসলাম (২-এ অবস্থান)।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের শীর্ষ ৩ সংগ্রাহক:
তুষার ইমরান: ১৮২ ম্যাচে ৩২টি সেঞ্চুরি ও ৬৩টি ফিফটিতে ১১,৯৭২ রান
নাঈম ইসলাম: ১৮৪ ম্যাচে ৩৪টি সেঞ্চুরিতে ১১,২৫০ রান
মুমিনুল হক: ১৬৯ ম্যাচে ২৯টি সেঞ্চুরিতে ১১,০১৭ রান
মাইলফলক ছোঁয়ার পর অবশ্য নিজের ইনিংসটি বেশিদূর টানতে পারেননি মুমিনুল। ৪৯ বলে ২৮ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে মিড অফে শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।


























