| |
  • প্রচ্ছদ
  • Uncategorized
  • আপসনামায় উঠে এলো যেসব তথ্য
  • মরিয়মের রহস্যজনক মৃত্যু

    আপসনামায় উঠে এলো যেসব তথ্য

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের জামিনে আপত্তি না থাকার কথা জানিয়ে আদালতে আপসনামা দিয়েছেন মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ। তিনটি শর্তে দুই পক্ষের মধ্যে এ সমঝোতা হয়েছে।

    শর্তগুলো হলো—নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে বাদী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না; জামিনের পর দুই পরিবার আগের মতো পারিবারিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে; আর মামলার বিচার ও তদন্তের ক্ষেত্রে উভয়পক্ষ নিরপেক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে আপসনামাটি দাখিল করেন মামলার বাদী মাসুম বিল্লাহ। পরে তিনি আসামিদের জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই বলে আদালতকে জানান।

    তবে রাষ্ট্রপক্ষ আপসনামার বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত মাকসুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করলেও গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলা হওয়ার পর বাদীর এ ধরনের আপসনামা দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেবেন এবং জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের।

    তিনি আরও বলেন, মাকসুদার বয়স ও অসুস্থতার বিষয় বিবেচনায় আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। প্রসিকিউশন আরও দাবি করে, বাদী ও আসামিরা নিকটাত্মীয় হওয়ায় কোনো ধরনের চাপের কারণে আপসনামাটি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। কেন এবং কীভাবে এমন সমঝোতা হয়েছে, তা তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে বলেও জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

    আদালতে দেওয়া সমঝোতায় নিহত মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে প্রথম পক্ষ এবং আসামিপক্ষের স্বজন আব্দুল হামিদ মোড়লকে দ্বিতীয় পক্ষ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মরিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সঙ্গেও মরিয়মের পারিবারিকভাবে সুসম্পর্ক ছিল এবং তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে সংসার করছিলেন।

    আপসনামায় আরও বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাসায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেন। মেয়ের জামাইয়ের বাসায় এ ঘটনা ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহের বশে তার বাবা শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। পরে বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে বাদী নিশ্চিত হন, নজরুল ইসলাম বা মাকসুদা ইসলামের কোনো প্ররোচনা কিংবা কার্যকলাপের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি।

    দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় উভয়পক্ষের সম্মতিতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সমঝোতাটি করা হয়েছে বলে দলিলে উল্লেখ করা হয়।

    গত ২০ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

    মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পর নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নজরুলের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওবায়দুর রহমানকেও এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    মামলার এজাহারে মরিয়মকে বিয়ের পর নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে মরিয়ম এসব বিষয়ে কথা বলতেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঘটনার দিন নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে বাসায় গিয়ে মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। সেখানে একটি সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    মরিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

    ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এর প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সন্দেহের জেরে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নজরুলের গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে নজরুল আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন।

    আরও পড়ুন