| |
  • প্রচ্ছদ
  • মুক্তমত
  • রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশায় আগামীর বাংলাদেশ
  • রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশায় আগামীর বাংলাদেশ

    Icon
    কামরুল হাসান নাফিজ
    প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন

    বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিনের নানা সংকট, অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং বিপুল সরকারি ঋণের বোঝা নিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

    ২০২৪–২৫ অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, ব্যয়সংযম, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি।

    এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবার ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ, প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস ও মন্ত্রণালয়ের আকার ছোট করার পরিকল্পনা, জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান এবং দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

    রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সংস্কার যেন কেবল রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং এর সুফল যেন সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রায় পৌঁছে। কৃষকের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি, তরুণদের কর্মসংস্থান, নিম্নআয়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন—এসব বিষয়কে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ করা প্রয়োজন।

    তারেক রহমানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ধরন অনেকের কাছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জনসম্পৃক্ততা, সরলতা ও দেশকেন্দ্রিক রাজনীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। তবে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ ভিন্ন। তাই অতীতের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ প্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বাস্তবভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটানোই হবে আগামীর নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা।

    এর পাশাপাশি আমি মনে করি, আগামীর বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালু করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি নাগরিককে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা কাঠামোর আওতায় এনে সরকারকে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারিভাবে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই নিশ্চয়তা তৈরি করা সম্ভব।

    কারণ একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সাফল্য শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে নয়; বরং একজন কৃষকের জীবনমান, একজন শ্রমিকের কর্মসংস্থান, একজন তরুণের ভবিষ্যৎ, একটি পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা এবং একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার নিশ্চয়তার মধ্যেই রাষ্ট্রের প্রকৃত সাফল্য নিহিত।

    বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিপুল ঋণের চাপ সামলে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, দুর্নীতি ও অপচয় কমানো এবং নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। একই সঙ্গে প্রয়োজন এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে—তার উত্তর শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, বাস্তবায়িত রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, জনকল্যাণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের মধ্যেই পাওয়া যাবে।

    আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই—যেখানে রাষ্ট্র হবে জনবান্ধব, প্রশাসন হবে জবাবদিহিমূলক, অর্থনীতি হবে উৎপাদনমুখী, তরুণরা পাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রতিটি নাগরিক পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা।

    আগামীর বাংলাদেশ হোক একটি আধুনিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ।

    লেখকঃ কামরুল হাসান নাফিজ, তরুণ ছাত্রনেতা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

    আরও পড়ুন