| |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • গাজায় ট্রাম্পের নতুন চুক্তি
  • গাজায় ট্রাম্পের নতুন চুক্তি

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ধাপে ধাপে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাঁর ভাষ্য, এই সমঝোতার মাধ্যমে নতুন একটি ফিলিস্তিনি সরকার গঠিত হবে, যা ফিলিস্তিনি জনগণের কল্যাণে বোর্ড অব পিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

    একই সঙ্গে ইসরায়েল তার প্রত্যাশিত নিরাপত্তা পাবে এবং গাজা আর সশস্ত্র হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন।

    তবে এ বিষয়ে হামাস আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। যদিও হামাস ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র শাখাগুলোর সম্মতিসূচক একটি নথি আল জাজিরার হাতে এসেছে। হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল জাজিরাকে বলেন, গাজা শান্তি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে হামাসও চুক্তির কোনো ধাপ কার্যকর করবে না।

    ট্রাম্প জানান, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের এই প্রক্রিয়া গত অক্টোবরে তাঁর মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ।

    তাঁর দাবি, ওই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটে। এ যুদ্ধে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। এরই মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগ রয়েছে, চুক্তির পর থেকে তারা এক হাজার ২০০–এর বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, আরও এলাকা দখল করেছে এবং গাজায় মানুষ ও পণ্যবাহী যান চলাচলে বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবারও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ আরও ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

    ট্রাম্প বলেন, নিরস্ত্রীকরণ শেষ হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এরপর সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করা হবে। এই বাহিনী নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। পরে গাজার দায়িত্ব এমন একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যারা জনগণের সেবা নিশ্চিত করবে।

    গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে হামাসের নেতারা মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। সেখানে তারা মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন। বৃহস্পতিবার হামাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরাকে জানান, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে।

    এর আগে গত ৬ জুলাই গাজায় নিজেদের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক সংস্থা বিলুপ্তির ঘোষণা দেয় হামাস। এর মধ্য দিয়ে উপত্যকাটিতে প্রায় দুই দশকের হামাসের শাসনের অবসান ঘটে। গাজি হামাদ বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না। একটি জাতীয় কমিটিই এ কাজের নেতৃত্ব দেবে।

    তিনি জানান, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর আলোচনা ছিল অত্যন্ত জটিল। তবে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্য থেকে হামাস সরে আসেনি। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার আওতায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করা হবে। এরপর আরও ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি পুলিশ একটি আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে। এই বাহিনীতে কোন কোন দেশ থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে গুঞ্জন রয়েছে, এতে ইন্দোনেশিয়া এবং সম্ভবত তুরস্কও থাকতে পারে। যদিও তুরস্কের অংশগ্রহণ ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

    আল জাজিরার হাতে আসা সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুতের প্রণালী ও বাস্তবায়নসূচি ১৪ দিনের মধ্যে তৈরি করতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশনের সম্মতি মিললে এ সময়সীমা বাড়ানো যাবে।

    অ্যালান ফিশারের ভাষ্য, সব পক্ষকে চুক্তিতে সইয়ের পর্যায়ে আনতে এখনো কিছু বাধা রয়েছে। তবে হামাসকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা এই চুক্তিতে সম্মত না হলে আর্থিকভাবে তাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তাঁর মতে, এই চুক্তি মেনে নিতে হামাসের ওপর উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক চাপ ছিল।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, বোর্ড অব পিসে তুরস্ক ও কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরায়েলের ব্যাপক সমালোচনা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমঝোতা প্রমাণ করেছে, দেশ দুটিকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

    ওই কর্মকর্তার ভাষায়, শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং হামাসের বাইরে একটি বিকল্প কাঠামো সামনে এসেছে। এটি হবে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, অরাজনৈতিক সরকার, যার প্রধান লক্ষ্য থাকবে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

    সূত্র: আল জাজিরা

    আরও পড়ুন