| |
  • প্রচ্ছদ
  • জলবায়ু ও পরিবেশ
  • ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় বিপন্ন পরিবেশ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ
  • ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় বিপন্ন পরিবেশ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ

    Icon
    মোঃ শরীফুল ইসলাম
    প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

    দেশে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে লোকালয় ও ফসলি জমির পাশে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া শুধু বাতাসকেই বিষাক্ত করছে না, বরং ধ্বংস করছে চারপাশের জীববৈচিত্র্য।

    ​পরিবেশের ওপর মারাত্মক আঘাত
    ​পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইটভাটায় কয়লা ও কাঠের অপূর্ণ দহনের ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং পার্টিকুলেট ম্যাটার (PM 2.5 ও PM 10) বাতাসে মিশছে।

    ​বায়ুদূষণ: ইটভাটার ধোঁয়া বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক বায়ুর মানকে (AQI) বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। ​ফসলের ক্ষতি: ইটভাটার আশেপাশের এলাকায় আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ধোঁয়ার আস্তরণ গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিচ্ছে।
    ​মাটির উর্বরতা হ্রাস: ইট তৈরির জন্য ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (Top Soil) কেটে নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে কৃষিজমি স্থায়ীভাবে উর্বরতা হারাচ্ছে।

    ​জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে
    ​চিকিৎসকদের মতে, এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে ইটভাটা সংলগ্ন এলাকার মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় এই বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে ফুসফুসের ক্যানসার, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা এবং হৃদরোগের মতো জটিল ব্যাধি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

    ​বিশেষজ্ঞের মন্তব্য:
    “ইটভাটার ধোঁয়া বাতাসে যে পিএম ২.৫ (PM 2.5) কণা ছড়াচ্ছে, তা সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও রক্তে প্রবেশ করছে। অবিলম্বে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত না করলে আগামী প্রজন্ম এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটে পড়বে।”

    ​আইন অমান্য ও প্রশাসনের ভূমিকা
    ​পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, লোকালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বনাঞ্চলের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন খুবই কম। দেশের বহু ইটভাটা এখনও সনাতন ও নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে (যেমন- ফিক্সড চিমনি) চলছে, যা আধুনিক জিগজ্যাগ (Zigzag) পদ্ধতির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ধোঁয়া উৎপাদন করে। পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও অদৃশ্য কারণে আবারও চালু হয়ে যায় এই পরিবেশ হত্যাকারী ভাটাগুলো।

    ​সমাধানের পথ
    পরিবেশবিদ রেজওয়ানা সিদ্দিকী বলেন, পরিবেশ বাঁচাতে হলে প্রচলিত ইটের বিকল্প হিসেবে ‘ব্লক ইট’ বা পরিবেশবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। একই সাথে অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, স্থায়ীভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

    ​অন্যথায়, এই ধোঁয়ার কুয়াশায় দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চিরতরে হারিয়ে যাবে।

    আরও পড়ুন