দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রোববার (১৬ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। এনডিএমের প্রতিষ্ঠাতা হলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
নির্বাচনের সময় তিনি এই দল ছেড়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে বিএনপি সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে একটা বক্তব্য, আরেকটা বক্তব্য হচ্ছে শেখ হাসিনা তার নিজের… আওয়ামী লীগের সভানেত্রী অথবা তার নিজের যে বিষয়টা। শেখ হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত।
তার ব্যক্তিগত যে সম্পত্তি আছে, সেটি বাজেয়াপ্তের আদেশ হয়েছে, তাকে জরিমানা করা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি যেটা আছে, সেটি কনফিসকেশনের একটা বিষয় আছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে যদি তার বিচার হয়, আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে কিন্তু ওই একজন ব্যক্তির মতোই ওই সংগঠনের বিরুদ্ধেও বিচার হবে। কারণ সংগঠনটাকে কিন্তু জুরিস্টিক পারসন বলা হয়।
জুরিস্টিক পারসন হিসেবে তার শুধু এই কারাভোগটা হবে না। অন্যান্য ফিন্যান্সিয়াল বা তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তসহ অন্যান্য বিষয় হবে। এমনকি হতে পারে যে ওই সংগঠন ব্যান করা হতে পারে, অথবা তার প্রপার্টি বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ওই সংগঠনের মাধ্যমে যদি কোনো আহত-নিহতের ঘটনা ঘটে থাকে, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি তার কোনো অর্থনৈতিক জরিমানা হতে পারে। এগুলো আমাদের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টে বলা আছে।
সম্পত্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগের সংগঠন হিসেবে তাদের যে প্রপার্টি আছে, আমাদের জানা মতে তাদের দুটি অফিস আছে, এগুলো এখন বোধহয় সম্ভবত পরিত্যক্ত। আর ৩২ নম্বরের একটি বাড়ি আছে, এটিও সম্ভবত ট্রাস্ট প্রপার্টি।
এগুলো আপাতত সরকারের তত্ত্বাবধানে নিয়ে রাখা যায়, যেহেতু এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে, যাতে এসব প্রপার্টির মধ্যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত না হয়। সে হিসেবে সরকার এগুলোর লুক আফটারের বিষয়ে নিতে পারে।
তিনি বলেন, আদালতের আদেশ সাপেক্ষে এগুলো বাজেয়াপ্তের বিষয় থাকতে পারে, যদি সংগঠন হিসেবে বিচার হয়। আর সংগঠন হিসেবে বিচার হলে সংগঠনের নামে যদি কোনো প্রপার্টি থাকে, সেগুলো বাজেয়াপ্তের আদেশ হলে সেগুলো সরকারের হেফাজতে চলে আসবে।
তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সংগঠনের ইনভেস্টিগেশন চলছে এবং একটি ইফেক্টিভ ইনভেস্টিগেশন চলছে। শেষ হতে কতদিন লাগবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ঠিক বলা মুশকিল।
তবে সংগঠন হিসেবে ইনভেস্টিগেশন সঙ্গত কারণেই অনেকগুলো বিষয় বিচার-বিশ্লেষণের দাবি রাখে এবং সেভাবেই ইনভেস্টিগেশনটা চলছে। অপেক্ষা করেন, দেখেন।
























