| |
  • প্রচ্ছদ
  • Uncategorized
  • মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে চায় সরকার
  • মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে চায় সরকার

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

    ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে নতুন গাড়ি কেনা, সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ঋণ বিতরণ, থোক বরাদ্দ থেকে ব্যয় বন্ধসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে কৃচ্ছসাধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের কতিপয় ব্যয় স্থগিত/হ্রাসকরণ’ শীর্ষক পরিপত্রে বলা হয়েছে, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের কতিপয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    কিছু ক্ষেত্রে কোড উল্লেখ করে ব্যয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ (কোড নম্বর ৩৯১১১১১ ও ৪৯১১১১১) থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। সব ধরনের যানবাহন ক্রয় (‘৪১১২১০১-মোটরযান’, ‘৪১১২১০২-জলযান’, ‘৪১১২১০৩-আকাশযান’) খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ও বন্ধ থাকবে।

    তবে শুধুমাত্র ১০ বছরের অধিক পুরোনো টিওঅ্যান্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে টিওঅ্যান্ডইভুক্ত যানবাহন অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে কেনা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তা কাজে ব্যবহারের মোটরযান ছাড়া প্রতিস্থাপনকৃত বা নতুন কেনা সব মোটরযান (জিপ/কার) অবশ্যই পুরোপুরি ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) হতে হবে।

    সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়েছে, নতুন আবাসিক (৪১১১১০১), অনাবাসিক (৪১১১২০১) এবং অন্যান্য ভবন-স্থাপনা (৪১১১৩১৭) নির্মাণ বন্ধ থাকবে। তবে চলমান নির্মাণকাজ ন্যূনতম ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে ব্যয় নির্বাহ করা যাবে। ‘৪১৪১১০১’ নম্বর কোড অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ও বন্ধ থাকবে।

    এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম (৭২১৫১০৩-সুদমুক্ত ঋণ) প্রদান বন্ধ থাকবে।

    চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটের ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সব ধরনের যানবাহন ক্রয় (‘৪১১২১০১-মোটরযান’, ‘৪১১২১০২-জলযান’, ‘৪১১২১০৩-আকাশযান’) বন্ধ থাকবে। তবে এ পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিলযোগ্য।

    এ ছাড়া ‘৪১৪১১০১-ভূমি অধিগ্রহণ’ খাতে অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে। পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে জিওবি বাবদ সংরক্ষিত বরাদ্দ অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় বিদেশ ভ্রমণের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান বা দেশ কর্তৃক প্রদত্ত স্কলারশিপ বা ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে।

    সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে আয়োজিত বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা যাবে।

    প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রদত্ত মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে। এ ছাড়া প্রি-শিপমেন্ট ইনস্পেকশন (পিএসআই) বা ফ্যাক্টরি এক্সেপ্টেন্স টেস্ট (এফএটি)-এর ক্ষেত্রে কেবল জটিল প্রকৃতির পণ্য এবং যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে পিএসআই বাধ্যতামূলক, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরিভাবে সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    এ ছাড়া অন্যান্য প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে ওই পরিপত্রে।

    আরও পড়ুন