২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা দুই জয় তুলে নিয়ে ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে দলের লক্ষ্য শুধু শেষ ষোলোয় ওঠা নয় বরং লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে তোলাও। সেই লক্ষ্যেই নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা।
ইনজুরিতে থাকা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পরিবর্তে খেলতে নেমে দারুণ পারফরম্যান্স দেখানো এই ডিফেন্ডার জানিয়েছেন, মেসির জন্য মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত পুরো দল। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেদিনা বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন আরও ছয়টি ফাইনাল। প্রতিটি ম্যাচে আমরা নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দেব। যে পজিশনেই খেলতে হোক, সবাই প্রস্তুত।
আমাদের অধিনায়কের বিদায়টা যেন সবচেয়ে সুন্দর হয়, সেটিই আমরা চাই। অবশ্যই আমরা চাই মেসি আরও খেলুক। তবে যদি এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ হয়, তাহলে তার জন্য জীবন দিয়েও লড়ব।’ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির করা প্রথম গোলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মেদিনার। বাম প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে গিয়ে কাটব্যাক থেকে বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে মেসি মজা করে সেই মুহূর্তকে বার্সেলোনায় জর্দি আলবার সঙ্গে তার পুরোনো বোঝাপড়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
তবে মেদিনা বিষয়টিকে বিনয় হিসেবেই দেখছেন, ‘আমার মনে হয়, লিও একটু বাড়িয়েই বলেছে। হয়তো বার্সেলোনার দিনগুলোর কথা মনে পড়েছিল। এখন সবকিছুই অনেক বড় করে দেখা হয়। আমি শুধু নিজের দায়িত্বটা ঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করছি।’
প্রথম একাদশে সুযোগ পেলেও সেটিকে পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেননি মেদিনা। কারণ এই সুযোগ এসেছে তাগলিয়াফিকোর চোটের কারণে। সতীর্থের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এভাবে সুযোগ পেতে চাইনি।
নিকোকে আমি খুব সম্মান করি। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কোচিং স্টাফ যেটা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটাই মেনে নেব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল জিতেছে এবং আমরা সবাই মিলে কাজ করছি।’
মার্শেইয়ের এই ডিফেন্ডার নিজের ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেছেন। ক্লাব ফুটবলে কঠিন মৌসুম কাটালেও কখনো আশা হারাননি বলে জানান তিনি, ‘ব্যক্তিগতভাবে বছরটা সহজ ছিল না। কিন্তু আমি কখনো হাল ছাড়িনি।
জানতাম, সুযোগ না পেলেও অন্তত আফসোস থাকবে না, কারণ আমি নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আল্লাহর রহমতে আজ আমি জাতীয় দলের অংশ। এখানে শুধু ভালো ফুটবলারই নয়, অসাধারণ মানুষও আছে। সেটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে শৈশবের সংগ্রামের কথাও স্মরণ করেন মেদিনা। বুয়েনস আইরেসের ভিলা ফিওরিতো এলাকায় বেড়ে ওঠা এই ডিফেন্ডার একসময় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কার্ডবোর্ড কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। একই এলাকা থেকেই উঠে এসেছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা।
শৈশবের কথা বলতে গিয়ে মেদিনা বলেন, ‘আমার মা ও পরিবারের সদস্যরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তারা সবসময় আমাকে সঠিক পথে রাখার চেষ্টা করেছেন। আমি আমার এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে চাই, সেই এলাকার আত্মাকে বহন করতে চাই। ম্যারাডোনা সেখানে যা সৃষ্টি করে গেছেন, তার প্রভাব আজও অনুভব করা যায়।’
























