কোম্পানি কমান্ডার ও অধিনায়ক পর্যায়ে দুই দফায় পতাকা বৈঠকের পরেও কমেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের উত্তেজনা। বিএসএফের ২৮ জনকে পুশইন করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
এদিকে জনবল বাড়ানোসহ সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও তৎপরতা বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে পতাকা বৈঠকে রাতের অন্ধকারে পুশইনের কথা স্বীকার করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে চেয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, পুশইনে ব্যর্থ হয়ে বিএসএফের রেখে যাওয়া ২৮ জন নারী-পুরুষ শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থান করছেন। হঠাৎ বৃষ্টি হলেও তাদের সেখানেই বাধ্য হয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে।
তাদের একপাশে কাঁটাতারের ওপারে বিএসএফ এবং অপর পাশে বিজিবি পাহারা দিচ্ছে। স্থানীয়রা ও বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার (৩ জুন) ভোর ৩টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলার এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বিএসএফ ২৮ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে।
কিন্তু বিজিবির টহলে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে ওই ২৮ জনকে শূন্যরেখায় রেখে সটকে পড়ে বিএসএফ। বর্তমানে ২৮ জনই শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে ছয়টি শিশু, ১২ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী রয়েছেন।
১৬ বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক বার্তায় এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি জানায়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে পুশইন করা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর (পুশব্যাক) চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার এবং সার্বিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় আরিফুল ইসলাম বলেন, ২৮ জনকে সীমান্ত পার হয়ে আমাদের গ্রামের দিকে আসতে দেখে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি এসে তাদের শূন্যরেখার ওপরে পার করে দেয়।
আনারপুর গ্রামের ওয়াসিম আকরাম জানান, রাতের অন্ধকারে বিএসএফ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কিছু মানুষকে কাঁটাতারের বেড়া খুলে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে তারা বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম অন্যায়। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে তারা গ্রামবাসীও প্রস্তুত রয়েছেন।
একই গ্রামের হাদিসুর রহমান জানান, ভারতের এ অবৈধ তৎপরতা যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করতে বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক রয়েছেন তারা।
নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে ও পরে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে দুটি পতাকা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ২৮ জনকে ভারতে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাতের অন্ধকারে জোর করে- এমনকি মারধর করেও লোকজনকে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে কোনোভাবেই তাদের অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত লাইট অফ করে কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।
বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেন জানান, তিনি ভোর ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই সময় বিজিবির কড়া নিরাপত্তা এবং টহল লক্ষ্য করেছেন। তবে শূন্যরেখায় অবস্থানকারীদের পাশে কোনো বিএসএফ সদস্যকে দেখতে পাননি।

























