৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • জলবায়ু ও পরিবেশ
  • ৮ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১৫
  • ৮ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১৫

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ

    দেশের আট জেলায় বজ্রপাতে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচ, সিরাজগঞ্জে দুই, জামালপুরে দুই, ঠাকুরগাঁওয়ে দুই এবং নাটোর, পঞ্চগড়, শেরপুর ও বগুড়ায় একজন করে চারজন রয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

    গাইবান্ধা
    জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় পৃথক এসব ঘটনা ঘটে।  এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় একজন আহত ও একটি গরুও মারা যায়।

    নিহতরা হলেন- দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), আল মোজাহিদ চৌধুরী ছোটন মিয়ার ছেলে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি (১২) এবং নবীন হোসেনের ছেলে মিজানুর (২০)।

    এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
    এদিকে, ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা চরে ঘোড়ার গাড়ি চালাতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘোড়াসহ মানিক হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে।  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান।

    এছাড়াও একই উপজেলার ফজলপুর ইউনিয়নের বুলবুলির চরে আলী আকবর নামে এক কৃষক গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে, জেলার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম স্বপন।

    সিরাজগঞ্জ
    জেলার পৃথক দুই এলাকায় বজ্রপাতে দুজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান এলাকা ও বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাসীন গ্রামে এ বজ্রপাত হয়।

    নিহতরা হলেন- রায়গঞ্জ উপজেলার মল্লিকচান গ্রামের আব্দুল হালিম শেখের ছেলে হাসান শেখ (২৫) ও তাড়াশ উপজেলার বেত্রাসীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে আব্দুল হামিদ (৫০)।  রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান ঘটনার সত্যত নিশ্চিত করেন।

    অপরদিকে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, বিকেলে বৃষ্টির মধ্যেই বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করা অবস্থায় বজ্রপাতে মারা যান কৃষক আব্দুল হামিদ।

    জামালপুর
    জেলার দুই উপজেলায় বজ্রপাতে হাসমত আলী হাসু (৪৫) ও মর্জিনা বেগম (২২) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন চারজন।বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    সদর উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত হাসমত আলী হাসু ওই এলাকার হাবিবর রহমান মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে গরু নিয়ে আসার জন্য মাঠে যান হাসমত আলী হাসু। হঠাৎ চারদিক অন্ধকার হয়ে ঝড় ওঠে। এ সময় গরু নিয়ে বাড়ি ফিরতে গেলে বজ্রপাত শুরু হয়।

    এ বজ্রপাতে হাসমত আলী হাসু মাটিতে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় একই এলাকার নূর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসন (৩৪), রুমান মিয়ার ছেলে শাওন (২৫) ও সুমনের মেয়ে সুখী (১৪) আহত হয়েছেন। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

    সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে জেলার মেলান্দহ উপজেলায় নিজ বাড়িতে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শেফালী (২৮) নামে আরও এক নারী আহত হয়েছেন। এক সন্তানের জননী মর্জিনা বেগম ওই এলাকার রাজিবের স্ত্রী।

    মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া দেওয়ানগঞ্জ ও সদর উপজেলায় চারটি গরু ও দুইটি মহিষ মারা গেছে৷

    নাটোর
    জেলার সিংড়ায় বজ্রপাতে মো. সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সম্রাট সিরাজগঞ্জে জেলার শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের মো. সাজা ফকিরের ছেলে। সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বগুড়া
    জেলার গাবতলী উপজেলায় মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন ওই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    পঞ্চগড়
    জেলার আটোয়ারীতে চা বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামে এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন মোস্তফা ও জমিরুল নামে দুজন শ্রমিক। সকালে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, নিহত সারওয়ারদ্দী একই গ্রামের আবু সামাদের ছেলে।  ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের মো. দুলাল বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন।

    ঠাকুরগাঁও
    জেলার পীরগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের ও কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৩৫) এবং কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে সেলিনা আক্তার ফসলি মাঠে কৃষিকাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। অন্যদিকে, বিকেলে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলী নিজের জমির ফসল দেখতে মাঠে যান। এ সময় তিনি আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ফসলি জমিতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।

    পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে পৃথক স্থানে দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    শেরপুর
    জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. আবুল হাসান (৪০) নামে ইসলামি ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা কার্যক্রমের এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে ঘটে এ ঘটনা। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রপাতসহ কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি হয়েছে।

    নিহত আবুল হাসান ঝিনাইগাতীর ধানশাইল ইউনিয়নের পূর্ব চাপাঝোড়া তালতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং শাহ আলম হাজির ছোট ছেলে। তিনি ইসলামি ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা কার্যক্রমের একজন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর ১টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে ধান কাটতে যান আবুল হাসান। বিকেল ৩টার দিকে এলাকায় বজ্রপাতসহ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। তবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে (প্রায় ৫টা পর্যন্ত) তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় জমির পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে এক কৃষক আবুল হাসানকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তার বাড়িতে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ বিষয়ে শেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এস এম মোহাই মোনুল ইসলাম বলেন, নিহত আবুল হাসান আমাদের গণশিক্ষা কার্যক্রমের একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আল-আমিন বলেন, আবুল হাসান নামে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

    আরও পড়ুন