প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় ও নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. হুমায়ুন কবীর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর দেশটির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন জাপানের কাছে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজ বুধবার রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ৪টি সমঝোতা স্মারক, ২টি অনুদান চুক্তি এবং ১টি অভিপ্রায়পত্র (LOI) সই হয়েছে। এর পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।
তিনি বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টায় তাঁর সরকারের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের সম্পর্ককে কেবল ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্ব দিয়েছে।
হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর এবং দুটি ইয়েন ঋণ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও বিভিন্ন খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে এবং টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য জাপান সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ২১২ কোটি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন ডলার) অনুদান দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের পক্ষ থেকে বড় অংকের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে চান উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, কর প্রণোদনা প্রদান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাপানি পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী, উৎপাদন সক্ষমতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অংশীদার হতে অনুরোধ জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামেও প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী, দক্ষ জনশক্তি এবং নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা জাপানি ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সড়ক, রেলওয়ে ও অন্যান্য অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
হুমায়ুন কবীর বলেন, দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই সফরে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাপানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রত্যাশা রেখে বলেন, আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
হুমায়ুন কবীর বলেন, এই সফরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং দক্ষতা উন্নয়ন খাতে নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই সফর অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীনসহ টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























