পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে অসতর্কতাবশত শব্দচয়ন হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারের অবস্থান ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে এবং এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের কঠোর প্রয়োগের বার্তা দিতে গিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে এই শব্দচয়ন করেছেনস। তবে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা কোনোভাবেই ঠিক বা উচিত হয়নি। তিনি আরও জানান, আইজিপি মূলত বলতে চেয়েছেন যে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার, কিন্তু তিনি নিজে বা সরকারের নির্দেশে কোনো ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত কাজ করতে চাননি।
তিনি এ কথা বলেননি যে, ক্রসফায়ার করার কোনো নির্দেশনা সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন অথবা তিনি নিজে তা করতে চান। তারপরও আমি বলেছি এ ধরনের শব্দচয়ন ও উচ্চারণ করা তার ঠিক হয়নি।
বর্তমান সরকারের আট মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই আট মাসে দেশে কোনো ক্রসফায়ার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। একটি গুমের অভিযোগ এসেছিল, সরকার সেটি তদন্ত করেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও স্বাধীনভাবে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে উল্লেখযোগ্য কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সরকার কোনো অবস্থাতেই বিচারবহির্ভূত হত্যা, কাস্টডিয়াল ডেথ (হেফাজতে মৃত্যু) বা গুম সহ্য করবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা চাই না দেশে আর কখনো এ জাতীয় মানবতাবিরোধী ঘটনা ঘটুক।” বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, এ সময়ে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুমের ঘটনা ঘটেনি।
প্রথম আট মাসকে সরকারের ভূমিকা মূল্যায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ এমন একটি রাষ্ট্রের প্রত্যাশা করেছে, যেখানে মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং অপরাধের বিচার হবে। ভবিষ্যতে দেশে যেন গুম, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা না ঘটে, আমাদের সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কোনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শাখার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তারা নিজেরা তদন্ত করতে পারবে না, অন্য বাহিনী তা করবে। এতে ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। কোনো কাজ ফৌজদারি অপরাধ হলে তার বিচার ফৌজদারি আইনেই হবে বলে স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার চকবাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেছিলেন, সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে। তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিয়ে জানানো হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অর্থে এই শব্দ ব্যবহার করেননি, বরং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের চিত্র তুলে ধরতেই মন্তব্যটি করেছিলেন।





















