মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ফলে টানা চতুর্থ কার্যদিবসের মতো দাম বেড়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৫৭ ডলার বা ১.৬ শতাংশ বেড়ে ৯৯.৪৯ ডলারে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত পর্যন্ত এ তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৬০ ডলার বা ১ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ৬৩ ডলারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতই তেলের দাম বাড়ার মূল কারণ। সম্প্রতি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা বেড়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা এবং জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটার উদ্বেগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে। নিজেদের স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। এতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন আরও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৯৭ দশমিক ৩৪ ডলারে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেল ১ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৩ ডলারে লেনদেন হয়।
এর আগের দিন ব্রেন্টের দাম ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে তেলের দামে নতুন করে ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য যোগ হচ্ছে।
সোমবার ইরান সতর্ক করে বলেছে, দেশটির স্থাপনায় আবার হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাসসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগে শনিবার মার্কিন বাহিনী তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়, যার একটি ছিল ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি অঞ্চলে থাকা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
























