| |
  • প্রচ্ছদ
  • লীড-২
  • সিলেটে চাঞ্চল্যকর ৩ খুন: নেপথ্যে কি পারিবারিক আক্রোশ?
  • সিলেটে চাঞ্চল্যকর ৩ খুন: নেপথ্যে কি পারিবারিক আক্রোশ?

    Icon
    জেলা প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

    সিলেটে একই পরিবারের তিনজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ডাকাতির কারণে, নাকি পারিবারিক শত্রুতার জেরে ঘটেছে-এ বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উভয় বিষয়কেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, বাসার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত ওয়ারড্রয়ার ও আলমারিগুলো খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার বা অন্য কোনো মূল্যবান জিনিস সরানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ডাকাতি, নাকি এর পেছনে পারিবারিক কোনো শত্রুতা কিংবা পূর্ববিরোধ রয়েছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখানে একটি দলিলও পাওয়া গেছে। সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

    হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডাকাতির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

    হত্যাকাণ্ডে কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘তাদের কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে কি না, সেটিও আমরা দেখছি। তবে আপাতত ঘটনাস্থলের ক্রাইম সিনে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।’

    পুলিশ কমিশনার বলেন, বুধবার সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার এক বাসিন্দা তাকে ফোন করে মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দরজা বন্ধ থাকার কথা জানান। বাসার দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে বলেও তাকে জানানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

    পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন পুলিশ কমিশনার।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে নগরের রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে বাবা, মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে।

    নিহতরা হলেন-নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিতালী ১১১, নিকুঞ্জ ভিলার বাসিন্দা মৃত আবরু মিয়ার ছেলে এমএ সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং তাদের বাসার গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)। তাহমিনা নগরের জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা। সাত্তার মিয়ার গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজারে।

    সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত উপকমিশনার মনঞ্জুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সকালে রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসার ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ গৃহকর্মীকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে এ ঘটনায় বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

    এদিকে, রায়নগরে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

    আরও পড়ুন