| |
শিরোনাম
জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়িত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তেই জুলাই আন্দোলন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যই পারে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ঠেকাতে: মাহদী আমিন জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের : প্রতিমন্ত্রী টুকু গণঅভ্যুত্থানে ক্লায়েন্ট স্টেট যুগের অবসান হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাড়ে ৪ হাজার ক্রসফায়ার ও ৭ শতাধিক গুমের পেছনে আ. লীগ: আইনমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের: জামায়াত আমির জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে : ইসলামী আন্দোলন জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন চায় এবি পার্টি জুলাই যোদ্ধাদের মর্যাদা দেওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্বঃ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
  • প্রচ্ছদ
  • রাজনীতি
  • জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের: জামায়াত আমির
  • জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের: জামায়াত আমির

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন

    জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমগ্র জনগণের-এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দল আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই। এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হাজার হাজার নির্যাতিত মানুষ। আন্দোলনের কৃতিত্ব পুরো জাতির, আর নেতৃত্বের কৃতিত্ব ছাত্র-তরুণ সমাজের। এই কৃতিত্ব নিয়ে টানাটানি করা উচিত নয়।

    তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, গুম, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। জামায়াতের আমির বলেন, ‘শহীদরা কোনো দলের সম্পদ নন, তারা জাতির সম্পদ।

    তাদের নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না।’ তিনি জুলাই আন্দোলনে আহতদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।

    সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তার অনেকগুলোই বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট সৃষ্টি করা হয়, যাতে মূল্যবৃদ্ধিকে যৌক্তিক হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। তিনি বলেন, ‘যদি দাম বাড়ানোর পর সংকট দূর করা সম্ভব হয়, তাহলে দাম না বাড়িয়েই কেন সেই সংকটের সমাধান করা হয় না? এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বদলে তাদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জামায়াতের আমির বলেন, ‘যেখানেই জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে, অন্যায়-অবিচার ও দমন-পীড়ন হবে, সেখানেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলার মাটিতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে অতীতের মতোই তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও জনগণের অধিকারভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। গণ সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলতে চাই, বিভেদ সৃষ্টি করবেন না।

    আপনার চারপাশের লোকজন থেকেই আপনার বিপদ, আমাদের কাছ থেকে কোনো বিপদ নেই। আমরা বিদেশি প্রভাবমুক্ত একটি বাংলাদেশ চাই বলেই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। নিরাপদ দেশ গড়তে প্রয়োজন হলে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আজ মানুষের একটাই দাবি-গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় পাঁচ বছর নয়, পাঁচ মাসের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটানো হবে।

    বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ৫ আগস্ট মানেই মুক্তি ও গণশক্তির উত্থান। জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে।

    বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা এবং মরহুম দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিকৃতিতে হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগিতায় বিএনপি একাধিকবার ক্ষমতায় এসেছে, সেই ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক ভুল হবে। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জুলাইয়ের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

    এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন এমপি, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসাইন, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত উল্লাহ টুটুল, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।

    আরও পড়ুন