খেত থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌঁছাতে চালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি পাইজাম চাল গড়ে ৩০ টাকা ৬৫ পয়সায় বিক্রি হলেও ব্যাপারী, মিলার ও আড়তদার হয়ে খুচরা বাজারে পৌঁছাতে সেই চালের দাম দাঁড়াচ্ছে ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত এক সংলাপে গবেষণার এই ফলাফল তুলে ধরেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক ফকরুদ্দিন আল কবির। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
সংলাপ সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থা, মুনাফা ও মধ্যস্বত্বভোগী’ শীর্ষক গবেষণায় এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সিপিডির গবেষণায় অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারচিত্রও তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়—কৃষক বা খামার পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে আসতে মসুর ডালের দাম বাড়ে ৭৮ শতাংশ, পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, আলুতে ৫০ শতাংশ, কাঁচা মরিচে ১১৬ শতাংশ ও বেগুনে ৭২ শতাংশ।
এ ছাড়া ডিমে ২৫ শতাংশ, গরুর মাংসে ১৩ শতাংশ, মাছে ১০ শতাংশ এবং ব্রয়লার মুরগির দাম খুচরা পর্যায়ে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। দেশে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘কোভিডের পর বিশ্বের অনেক দেশেই মূল্যস্ফীতি কমলেও বাংলাদেশে ৯ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।
এর প্রধান কারণ অতিরিক্ত লজিস্টিক খরচ। বিশ্বজুড়ে লজিস্টিক খরচ জিডিপির গড়ে ১০ শতাংশের মতো হলেও বাংলাদেশে তা ১৬ শতাংশ।’ কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন,‘গত দুই বছর ধরে দেশে এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদিত হলেও আলুচাষিরা উৎপাদন খরচের অনুপাতে সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। তা সত্ত্বেও কৃষকেরা বাধ্য হয়ে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লজিস্টিক ও আমদানি খরচ কমানোর ওপর জোর দিয়ে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেকে চাঁদাবাজি বন্ধের কথা বলেন, তবে আমি বলব আমাদের ‘আনঅ্যাকাউন্টেড’ (অপ্রদর্শিত) খরচ কমাতে হবে।
উৎপাদনের শুরু থেকে বাজার পর্যন্ত প্রতিটি স্তর চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের কাজ চলছে।’























